খেয়ানতকে না বলুন, মাগফিরাতে ঘরে আসুন

খেয়ানতকে না বলুন, মাগফিরাতে ঘরে আসুন

মুহাম্মাদ আইয়ুব ❑ অনেক দিন আগের একটি লেখা। তবে মাগফিরাতের এই দিনে লেখাটি খুবই প্রাসঙ্গিক। আল্লাহর ক্ষমা পেতে হলে খেয়ানতের দোষে দুষ্ট হওয়া যাবেনা। অথচ আজকাল বিশেষ পোষাকওয়ালারাই দেদারছে খেয়ানতের মত নিকৃষ্ট কাজ করে যাচ্ছে। পক্ষে বিপক্ষের কথা না ভেবে আত্মসমালোচনা হিসেবে লেখাটি পড়লে বোধহয় এ থেকে উত্তরোণের পথ সহজ ও সুগম হবে। না হলে জীবনটা ইন্টারন্যাশনালের চোরাবালিতে আটকে থাকবে।

অন্যের অধিনে চাকরি করতে করতে আমি ক্লান্ত, প্রিন্সিপালরা আমাদেরকে শিক্ষিত গাধা ছাড়া আর কিছুই মনে করেনা। ফ্যামেলি যদি থেকে থাকে তাহলে তারটাই, আর আমাদের ফ্যামেলি! আরে আল্লাহ আছেন না? মুমিনদের উত্তম আশ্রয়স্থল তো তিনিই।আর উনাদের আশ্রয়স্থল বয়ানের সময় আল্লাহ বাকি সময় বোডিং ফান্ড, লিল্লাহ ফান্ড, হাদিয়া ফান্ড ইত্যাদি। চামড়াকে আর কতদিন গন্ডারের লেভেলে রাখা যায়। নাহ, এভাবে আর চলেনা। এবার নিজেই কিছু করতে হবে।
কি করা যায়, কি করা যায়?
আইডিয়া!!!
ন্যাশনাল কিছু না, ডাইরেক্ট ইন্টারন্যাশনাল।
আর এ ক্ষেত্রে হিফজুল কুরআন সবচাইতে সহজ ও লাভজনক।

যেই ভাবা সেই কাজ, গ্রামের বাড়ির কিছু জমিজমা বিক্রি করে রমজানের পরেই যাত্রাবাড়ীর কোন এক চিপায় ইন্টারন্যাশনালকে দাড় করাতে হবে। তুলনামূলক সেখানের ভাড়া কম। আর ইন্টারন্যশনালের জন্য কালেকশনটা শবে বরাতের পরেই শুরু করে দিতে হবে। এই সময় বড়লোকদের মৃত পিতা-মাতার প্রতি তাদের একটু আধটু দয়া মায়া আসা শুরু হয়। তাই তাদের অফিস, বাসা, ফ্যাক্টরিতে ঘন ঘন হানা দেওয়ার এটাই মোক্ষম সুযোগ।

ছাত্র কালেকশন পানির মত সহজ, গ্রাম থেকে কিছু ধরে নিয়ে আসব গরিব সরিব দেখে। আর ইন্টারন্যাশনালের আঙ্গিনায় কয়েকটি ঝলমল হিফজুল কুরআন ও হামদ নাত প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেই বিভিন্ন হিফজখানার সুরেলা রিটায়ার্ড হুফফাজগণ জুটে যাবে। ওদেরকে হায়ারে এনে প্রতিযোগীতা দেওয়ালেই বাজিমাত। তারপর তো আর পিছনে ফেরার সময় নেই আর আকর্ষণীয় ডিজিটাল ব্যানার তো আমার ইন্টারন্যাশনালের বিউটি পার্লার।

দীর্ঘ সাধনার পর আমার অতি সাধের ইন্টারন্যাশনাল নিজস্ব জমিতে মাথা তুলে দাড়িয়েছে। ইন্টারন্যাশনালের গাড়ি হয়েছে, প্রিন্সিপালের ফ্ল্যাট হয়েছে, আর যশ খ্যাতি সেটা তো আকাশচুম্বী। যে কোনো টেলিভিশনের রমজান ভিত্তিক অনুষ্ঠানে আমিই প্রধান হোমড়াচোমরা। তবে দুঃখের বিষয় হল, যে কারণে আমি প্রিন্সিপালের অধীন থেকে মুক্ত হয়েছিলাম। স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর থেকে অন্যের আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আমার ক্যারিয়ার শেষ করবনা বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলাম। আজ হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছি যে, সেই সে মন্দ স্বভাব বিশেষকরে মাদ্রাসার টাকায় খেয়ানতের মত নিকৃষ্ট স্বভাব আমি আমার ভিতর অনুভব করি। কারণ হল, আমার ভাবনা হচ্ছে ইন্টারন্যাশনালের মালিক আমি, এর আয় ব্যায়ের হিসাব আমার কাছে, আমি আবার কার কাছে জবাব দিতে যাব? অথচ একথা কোন দিন মাথায় আসেনি আমিও একজন কুরআনের খাদেম। মাদ্রাসার নামে যে কালেকশন করছি সেটাতো আমিই ভোগ করছি!

অনুতাপ, পরিতাপ, আফসোস একদম আসেনি বললে ভুল হবে। এসেছিল তবে ফুলুসের সামনে তা বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। কেউ আমার কাছ থেকে হিসেব নেই না বিধায় খিয়ানত করতে বেশ সুবিধা হয়েছে। তবে এখন আমি চাইনা যে, কেউ আমার মত খিয়ানতে অভ্যস্ত হয়ে তার উভয়কালের ক্যারিয়ার নিজ হাতে জবাই করুক। বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলুন- ‘খিয়ানতকে না বলুন, মাগফিরাত ঘরে আনুন।’

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *