নাস্তিক আস্তিক শরীয়ত সমর্থিত শব্দ নয়

নাস্তিক আস্তিক শরীয়ত সমর্থিত শব্দ নয়

নাস্তিক আস্তিক শরীয়ত সমর্থিত শব্দ নয়

আবুদ্দারদা আব্দুল্লাহ ❑ গতকাল একজন জিজ্ঞেস করেছেন, ভাই, আমরা যেহেতু মুসলমান সুতরাং কুরআন এবং হাদীস আমাদের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আমাদের জীবনে চলার পথে এই দুইটা গ্রন্থ সবচেয়ে বড় রেফারেন্স বুক। মুসলমান হতে হলে এই দুইটা জিনিসের উপর ঈমান আনয়ন আবশ্যক। এই দুইটা মহাগ্রন্থে যা বলা হয় তা আমাদের পরিপূর্ণরুপে মানা, সে অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করাই হচ্ছে একজন প্রকৃত মুসলমানের কাজ। আর আমরা যদি কুরআন এবং হাদীস পুঙ্খনাপুঙ্খ না মানি তাহলে পরকালে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

কুরআন হাদীসের বাইরের শব্দ নাস্তিক আস্তিকের প্রচলন ঘটায় সমাজে, তাহলে কি কুরআন এবং হাদীসের অবমাননা করা হবে?

আমার প্রশ্ন হলো, আস্তিক এবং নাস্তিক কুরআন হাদীসের কোথাও এই শব্দদুটোর উল্লেখ নেই। এ ব্যাপারে নবিজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন হাদীসও নেই। কাফের, মুশরিক, মুরতাদ, মুনাফিক ইত্যাদি শব্দের কথা কুরআন এবং হাদীসে এসেছে। সুতরাং মুসলমানরা যদি কুরআন হাদীসের শব্দ বাদ দিয়ে কুরআন হাদীসের বাইরের শব্দ নাস্তিক আস্তিকের প্রচলন ঘটায় সমাজে, তাহলে কি কুরআন এবং হাদীসের অবমাননা করা হবে?

আমি বললাম, নাস্তিক আস্তিক শব্দগুলো আমার কাছে ঘৃন্য-বিরক্তিকর শব্দ কারণ শয়তানই একটা বড় আস্তিক। তার জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে নিয়ে তার মৃত্যু সংঘটিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সে আল্লাহর উপরে বিশ্বাসী। একজন মুসলমান কখনো শয়তানের দলের হতে পারে না।

মুহাম্মদের উপর ঈমান এনো না, কারণ মুহাম্মদ আর শয়তান একই দলের (নাউজুবিল্লাহ)।

কুরআন এবং হাদীসে যদি আস্তিক নাস্তিক এই দুইটা শব্দ থাকতো তাহলে ইহুদি খ্রিস্টানরা কুরআন হাদীসের উপরে প্রশ্ন তুলতো শয়তানের কথা উল্লেখ করে। তারা মানুষকে আহ্বান করে বলতো, মুহাম্মদের উপর ঈমান এনো না, কারণ মুহাম্মদ আর শয়তান একই দলের (নাউজুবিল্লাহ)। আল্লাহ পাক তাঁর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান ব্যক্তিত্ব ইহুদি খ্রিস্টানদের দ্বারা হেয় প্রতিপন্ন হোক এমন কোন সুযোগই দেননি।

এই কারণে আস্তিক নাস্তিক এই দুইটা শব্দ আমাদের শরীয়তের কোথাও নেই। আসলে বিষয়টি হলো, ১৯১৭ এ যখন কমিউনিস্টরা রাশিয়ায় ক্ষমতায় এলো, তখন পৃথিবীতে একটি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিলো কমিউনিস্টদের স্বপক্ষে। আমেরিকা সকলকে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে একত্রিত করেছিলো আস্তিক নাস্তিক শ্লোগান দিয়ে। শরিয়তে যেই পরিভাষা আছে সেটি হচ্ছে ‘হক ও বাতিল’। সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ, আল্লাহর দোস্ত ও দুশমন এসব বুঝাতে গিয়ে ‘হক বাতিল’ শব্দদুটিকে ব্যাবহার করা হয়েছে। আমরা আস্তিক নাস্তিক শব্দদুটির মত বিদ্বেষপূর্ণ সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী শব্দ পরিহার করে কুরআনের শিখিয়ে দেওয়া শব্দ হক ও বাতিলের প্রচলন ঘটাতে পারি। গত শাহবাগ গনজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের বিরুদ্ধে হক্বানী ওলামাদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর লোকেরা মিলার জন্য তারা আস্তিক নাস্তিক পরিভাষাটি আবার বাংলাদেশে নতুন মোড়কে নিয়ে আসে এবং ফায়দা লুটে। পরবর্তীতে এটাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’-এর মতো বই-পুস্তকও লেখা হয়েছে এবং ব্যাপক প্রচারও করা হয়েছে।

আল্লাহ পাক আমাদেরকে শরীয়তের পরিভাষা মোতাবেক জীবন পরিচালিত করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের সহায় হোন৷

লেখক: প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *