দেশ ভাবনা । সাদেকুর রহমান
অর্থনীতি সুরক্ষার করোনাযুদ্ধে শেখ হাসিনার প্রশংসায় বিশ্ব
বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসের (কভিড-১৯) তা-বে ল-ভ- হয়ে গেছে সারাবিশ্ব। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশও। জনজীবন, অর্থনীতি, শিক্ষা, ক্রীড়া, ধর্মপালন- সর্বত্রই ব্যাপক ছন্দপতন ঘটেছে। মানুষের নিত্যদিনের জীবনাচারেও এসেছে নজীরবিহীন পরিবর্তন। দেশে চলতি বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে এবং প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। সরকারি হিসাবে, এ পর্যন্ত (১৬ মে, ২০২০) করোনা ভাইরারে ৩১৪ ব্যক্তির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। মোট করোনা আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৯৫ জন। এছাড়া বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছে সর্বমোট ৪ হাজার ১১৭ জন। সব জেলাতেই ইতিমধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বছরের (২০১৯) ডিসেম্বরের শেষ দিন চীনের উহান শহরে প্রথমে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর সেখানে ভয়াবহ আকার ধারণ করে ভাইরাসটি। ইতোমধ্যে ২১২ টির মতো দেশ ও অঞ্চলে ভয়াবহ আকার ধারণ করে ভাইরাসটি। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে চীনসহ আমেরিকা, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্সের মতো উন্নত রাষ্ট্রগুলোও। ক্ষণে ক্ষণে ভাইরাসটির রূপ বদলের কারণে বিজ্ঞানীরা রাত-দিন গবেষণা করে এর প্রতিষেধক আবিষ্কারে অক্রান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, করোনা কখনোই হয়তো নির্মূল হবে না। করোনার প্রতিষেধক আবিস্কারও সময়সাপেক্ষ ব্যপার। এ সময়ে করোনা মোকাবিলায় ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব (৩ মিটার) বজায় রাখা, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া, বাইরে থেকে এসে ভালো করে অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসা, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গ নিরোধ ব্যবস্থা) থাকা, মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লোভস ব্যবহার করা সহ বেশ কিছু স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছে ডব্লিউএইচও। বাংলাদেশও ডব্লিউএইচও’র সার্বজনীন স্বাস্থ্যবিধি ও চিকিৎসা গাইড লাইন মেনে চলছে।
করোনা মহামারি ঠেকাতে সরকার সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাকে শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে আসছে। জনগণের মাঝে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক জনসমাগম রোধে সরকার কয়েক ধাপে সাধারন ছুটি ঘোষণা করেছে। সাধারন ছুটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ। এতে করে করোনা সংশ্লিষ্ট দফতর ও জরুরি সেবা ছাড়া বাকি সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে। এতে সুফলও পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সরকার করোনা মোকাবিলায় সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপ হিসেবে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমাগম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক সড়ক, নৌ, রেল ও আকাশ যোগাযোগ। যদিও পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদ উপলক্ষে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সময়োপযোগী উদ্যোগ-পদক্ষেপ নিচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। দেশের মানুষ ও অর্থনীতি সুরক্ষার করোনাযুদ্ধে সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী এই সংকটের সময় মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতি সুরক্ষার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গৃহীত পদক্ষেপ বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। কৃষি জমি যেন পতিত না থাকে, কলকারখানার চাকা যেন স্তব্ধ হয়ে না যায় এবং কোনো মানুষ যেন খেয়ে না থাকে- এ তিনটি বিষয়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সে লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতেই কাজ করছে সরকার।
এপ্রিলের চতুর্থ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের বাংলাদেশে তা এখনো কার্যকর করতে পারেনি যুক্তরাজ্য। সেখানে দুর্যোগ কোন নতুন ঘটনা নয়। আর এই করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেননি তিনি।
অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করে মানুষের জীবিকা রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্ব বিখ্যাত ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পত্রিকা। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের ওপরে। দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, করোনা ভাইরাসের মহামারী পরিস্থিতিতেও ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে ৯ম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, বাংলাদেশ সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এগুচ্ছে।
প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত পরিস্থিতি অনুযায়ী সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার। এদিকে ৩০ মে পর্যন্ত আন্ত;জেলা গণপরিবহন বন্ধের পাশাপাশি বড় বড় শহরগুলোতেও কোনো গণপরিবহন চলাচল না করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তবে জনগণের যোগাযোগ এবং ডাক ব্যবস্থা কার্যকর রাখার স্বার্থে ধীরে ধীরে রেল যোগাযোগ চালু করা হচ্ছে। পচনশীল এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য যেন দ্রুত পরিবহন করা যায় তার জন্য রেল পরিবহণ শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটিকালীন কেউ কর্মস্থল ত্যাগ এবং নিজ নিজ স্থান ত্যাগ না করার নির্দেশনা রয়েছে। আন্ত:জেলা ও আন্ত:উপজেলা ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
শর্ত সাপেক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তৈরি পোশাক কারখানা খোলা হয়েছে। চলমান রোযা ও আসন্ন ঈদ উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১০ মে থেকে ‘সীমিত আকারে’ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলকে মাস্ক ব্যবহার সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বড় বড় শপিং মলগুলোর প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি জেলায়, বিভিন্ন জেলাভিত্তিক যেসব ছোটখাট শিল্প রয়েছে, সেগুলো চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে সচল থাকে সেজন্য ইতোমধ্যে যারা ঋণ নিয়েছেন ঋণের সুদ স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। মসজিদে মুসুল্লীদের নামায আদায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। মসজিদে ইফতার এবং সেহেরি করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে এ পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এক লাখ এক হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৮টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
উদ্ভূত পরিস্থিতে সহজ শর্তে, জামানত ছাড়াই নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন ঋণ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। কোনো বন্ধক বা মর্টগেজ ছাড়াই এই ঋণ বিতরণ করবে পরীক্ষিত ও স্বচ্ছল এনজিওগুলো। ঋণ খেলাপি ছাড়া নারীদের দেয়া হবে বিশেষ প্রাধান্য।
করোনা সংক্রমণের চিকিৎসা সেবাকে আরও গতিশীল করতে ২ হাজার চিকিৎসককে জরুরি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত ৪ মে রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে পাঁচ হাজার ৫৪ জনও নিয়োগের সুপারিশ করে সরকারি কর্মকমিশন। করোনা সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করার পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ ও হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের পরিমান বাড়ানো হচ্ছে।
করোনাযুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে মাথায় রেখে দেশের আন্তর্জাতিক সকল বন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিং স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। বিদেশ থেকে যারা আসছেন তাদের তালিকা ঠিকানাসহ জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন আগত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিনে (নিজ গৃহে একাকী জীবনযাপন) রাখার ব্যবস্থা করছেন। যারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার আইন ভঙ্গ করছেন তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে।
রাজধানীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতাল বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি জেলা, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পৃথক বেড রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য নির্ধারিত নম্বর দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইন, জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন সরকারের পক্ষ থেকে মিডিয়াতে প্রচার করা হচ্ছে। জেলা, উপজেলা পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। পতেঙ্গা ও কক্সবাজারসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নিম্ন আয়ের মানুষদের ১০ টাকা কেজি দরে ৯০ হাজার টন চাল দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবিলায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি থেকে মে-এই চার মাসের গ্যাসের বিল আগামী জুনে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য কোনো বিলম্ব মাশুল দিতে হবে না।
করোনা বিস্তার রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করেছে সরকার। সংসদ টিভিতে ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ নামক অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক ক্লাস চালু করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ক্লাস চালু রাখতে পারে এবং পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট না হয়। গত ২৯ মার্চ থেকে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে।
করোনা আক্রান্ত দেশগুলোতে অবস্থানরত প্রবাসীদেরও আর্থিক সহায়তা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদেশে প্রবাসী কর্মীদের খাদ্য, আবাস, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনে এ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে। সরকার প্রবাসীদের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা ও বিভিন্ন দূতাবাসে হটলাইন চালু সহ ১২টি কার্যক্রম বা পদক্ষেপ নিয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিজিডি কার্যক্রমের আওতায় দেশের ১০ লাখ ৪০ হাজার দুস্থ ও অসহায় নারীকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শহর অঞ্চলে ২ লাখ ৭৫ হাজার কর্মজীবী দরিদ্র মাকে ল্যাকটেটিং মা ভাতা এবং পল্লী অঞ্চলের ৭ লাখ ৭০ হাজার দরিদ্র মাকে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতিতে সামাজিক নিরাপত্তামূলক এসব কার্যক্রমের সুবিধাভোগীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা এবং নারী ও শিশুর উন্নয়নে চলমান সকল প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে পথশিশুদের সার্বক্ষণিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে অবস্থানের বিষয় নিশ্চিত করা এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র ও কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর বাইরে করোনা সংকটে আয় বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য ৬ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে সরকার।
এছাড়া করোনা নিয়ে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে ইতোমধ্যে ২০টি ফেসবুক আইডি, পেইজ বন্ধ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ধরনের কর্মকা-ে জড়িত আরও ৫০টি ফেসবুক আইডি, পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেল শনাক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কজনকে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৪ মে সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সর্বশেষ করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে বলেছেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন জনগণকে ঈদুল ফিতরের আগেই নগদ আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী দেশের হত দরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ সহায়তা হিসেবে আড়াই হাজার টাকা করে মোবাইলের মাধ্যমে প্রেরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
করোনা ভাইরাসের কারণে যাদের আয়-উপার্জনের পথ নাই তাদের ঈদ উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী তার সকল শক্তি, মনোযোগ ও দৃষ্টি দিয়ে করোনা মোকাবিলায় কাজ করছেন। সকলেই আশাবাদী তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত নানামুখী কার্যক্রমের সুবাদে করোনা দুর্যোগ কেটে যাবে, নতুন আলোয় ভাসবে বাংলাদেশ। পিআইডি নিবন্ধ
লেখক : কলামিস্ট


