সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা ও অর্থার্জনের ১৬ উপায় । রাজু আলাউদ্দিন

সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা ও অর্থার্জনের ১৬ উপায় । রাজু আলাউদ্দিন

বাঁকাচোখে | রাজু আলাউদ্দিন

সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা ও অর্থার্জনের ১৬ উপায় 

সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা, প্রচার, পুরস্কার ও অর্থার্জনের ১৬ টি সহজ উপায়:

১. আপনি ভালোভাবে লিখতে পারার আগেই, একটা দল পাকান অথবা দলে ভিড়ে যান। অথবা নিদেনপক্ষে একটা লিটলম্যাগ করুন। ক্ষমতাবান ধরে ধরে তাদেরকে নিয়ে সংখ্যা করুন।

২. মোটামুটি লিখতে পারার পর ক্ষমতাবান পত্রিকায় লেখার আশায় ওটার সাহিত্য সম্পাদকের সাথে তোষামদের সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

৩. পুরস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন পুরস্কার কমিটির প্রভাবশালী প্রবীণদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন। তাদের বইয়ের প্রশংসাপূর্ণ পুস্তক-আলোচনা লিখুন কিংবা তাদেরকে নিয়ে দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখুন। সম্ভব হলে তাদের বাসায় ঘনঘন যাতায়াত করুন। ঘেটুপুত্রের মতো তাকে বিনোদনে খুশী রাখুন।

৪. সরকারি বা আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হোন যেখানে মোটামুটি কাজ করতে হয় না , কিন্তু ভবিষ্যত নিশ্চিত।

৫. জীবিত এমন কাউকে নিয়ে লিখুন যিনি আপনাকে নিয়ে লিখে বা অন্য এনাম দেয়ার মাধ্যমে তার প্রতিদান দেবেন।

৬. পশ্চিমবঙ্গের সেই সব লেখক, সাহিত্যপত্রিকা বা পুরস্কারের সংগঠনগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তুলুন এবং পিঠ চুলকান।

৭. সরকারের বিপক্ষে যায় এমন কিছু বলা থেকে সুকৌশলে বিরত থাকুন।

৮. প্রকাশকদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখুন।

৯. পছন্দের নয় জেনেও সেই লেখক সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিষোদ্গার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কারণ তিনি আপনার মুখোশ উন্মেচনের বিপজ্জনক কাজটি করে ফেলতে পারেন।

১০. ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনবাস্তবতা’ জাতীয় বস্তাপচা প্রবন্ধ লিখুন মৃত লেখকদের সম্পর্কে।

১১. আপনার বস যদি লেখক হয়ে থাকেন তাহলে প্রতিদিন লিখে বা সামনাসামনি ইনিয়ে বিনিয়ে তার প্রশংসা করুন। বলুন, তার প্রতিটি গ্রন্থই হচ্ছে বাংলা সাহিত্যে নতুন বাঁক সৃষ্টিকারী। কবি হলে, তাকে একালের জীবনানন্দ দাশ, আর কথাসাহিত্যিক হলে, একালের মানিক বলে আখ্যায়িত করুন।

১২. টিভি চ্যানেলগুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলুন যাতে করে আপনাকে টক শো’গুলোতে আমন্ত্রণ জানায়।

১৩. যার কাছ থেকে সুবিধা পাবেন বলে মনে করেন তার অখাদ্য লেখাগুলোতে কমেন্ট করে ‘ অসাধারণ ‘ বলে মন্তব্য করুন।

১৪. বস ক্ষমতায় থাকলে তাকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাবেন দীর্ঘ পোস্ট লিখে। কিন্তু যখন তিনি ক্ষমতায় নেই, তখন তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো থেকে বিরত থাকুন।

১৫. প্রবীণ ও নবীন লেখককে দিয়ে নিজের বইয়ের আলোচনা লেখার জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকুন। তাতে কাজ না হলে তার হাতে কিছু ধরিয়ে দিন।

১৬. কবিতার বিষয়ভিত্তিক বা দশকওয়ারি সংকলন করুন যার সম্পাদক হবেন আপনি এবং সেখানে আপনার অপাঠ্য কবিতাগুলো সর্বাধিক সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত করুন।

আপনি যদি উপরোক্ত পরামর্শগুলো অনুসরণ করেন তাহলে আপনি কামিয়াব হবেন- এতে কোনা সন্দেহ নেই। আপনার জন্য শুভ কামনা থাকলো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *