আয়া সোফিয়ার ইমামবৃত্তান্ত

আয়া সোফিয়ার ইমামবৃত্তান্ত

আয়া সোফিয়ার ইমামবৃত্তান্ত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ৮৬ বছর পর নামাজ শুরু হওয়া বিখ্যাত আয়া সোফিয়া মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হন বসোনিয়া বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট আলেম ও কারি ফারুহ মিশতাওয়ার।

গত মে মাসের ২৯ তারিখ আয়া সোফিয়ায় অনুষ্ঠিত ইস্তাম্বুল বিজয়ের ৫ শত ৬৭ তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। সেদিন অনুষ্ঠানে তিনি সুরেলা কণ্ঠে পবিত্র কোরআনের সুরা ফাতহ তেলাওয়াত করেছিলেন। কিন্তু সেদিন উপস্থিত কেউ কল্পনাও করেনি, আয়া সোফিয়া মসজিদ হওয়ার পর এ মহান ব্যক্তি মসজিদটির ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হবেন।

সম্প্রতি আল জাজিরা নেটে প্রকাশিত এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘ইস্তাম্বুল বিজয়ের ৫৬৭ তম বার্ষিকীতে আয়া সোফিয়ায় কোরআন তেলাওয়াতের আমন্ত্রণ ছিল আমার জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। তা আমার ওপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের ছিল। সেদিন আমি আয়া সোফিয়ায় সুরা ফাতহ থেকে তেলাওয়াত করেছিলাম। হয়ত সেটিই আমার জন্য মসজিদের ইমাম নিযুক্তের সুসংবাদ বয়ে এনেছে।’

তিন সন্তানের জনক শায়খ ফারুহ ১৯৭১ সালে জম্মগ্রহণ করেন। বসোনিয়ার বোশনাক অঞ্চলের বংশোদ্ভূত তিনি। মা সারজেভো ও বাবা সানজাক অঞ্চলের লোক ছিলেন। ১৮৯৩ সালে বসোনিয়ায় অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয়দের দখলদারিত্বের সময় তাঁর পরিবার তুরস্কে চলে আসে। তখন তাঁর পরিবার অন্য শরণার্থীদের সঙ্গে তুরস্কের কোতাহিয়া অঞ্চলের তাইজিয়া গ্রামে বসবাস করেন।

ছোটবেলায় গ্রামের মসজিদেই কোরআন শিক্ষা লাভ করেন শায়খ ফারুহ। মাত্র ১১ বছর বয়সে হেফজ সম্পন্ন করেন তিনি। অতঃপর উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক সম্পন্ন করে কোরআনের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। অতঃপর কোতাহিয়া ও অস্ট্রিয়ায় মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে ইস্তাম্বুলের প্রশিদ্ধ ইয়ানি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে তিনি কুয়েতের কেরআন প্রতিযোগিতায় তুরস্কের প্রতিনিধিত্ব করে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

আয়া সোফিয়ার ইমাম নিযুক্ত হওয়ায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শায়খ ফারুহ মিশতাওয়ার বলেন, ‘মুহাম্মাদ ফাতেহের মিম্বারে দাঁড়ানোর অনুভূতির কোনো বর্ণনা দেওয়া যায় না। কেবল আল্লাহর প্রশংসা করাই কাম্য। সুসংবাদটি শুনে আমি অত্যন্ত পুলকিত। কারণ স্বয়ং রাসুল (সা.) ইস্তাম্বুল বিজয়ের সুসংবাদ দিয়েছেন। আর আয়া সোফিয়া হলো ইস্তাম্বুল বিজয়েল অন্যতম নিদর্শন। আল্লাহর কাছে আমার নিবেদন, তিনি যেন আমাকে এ সম্মানের উপযুক্ত করেন।’

মুসলিমজাতির ঐক্যের আশা ব্যক্ত করে শায়খ মিশতাওয়ার বলেন, আয়া সোফিয়া মসজিদ হওয়ায় পুরো বিশ্বের মুসলিমদের অন্তরে আনন্দের রোল পড়েছে। আল্লাহ যেন এ উপলক্ষে আমাদের সবাইকে ঐকবদ্ধ করেন। এর মাধ্যমে যেন অদূর ভবিষ্যতে মুসলিম উম্মাহ আল কুদস ও মসজিদ আকসা দখলমুক্ত করতে সচেষ্ট হয়।

আয়া সোফিয়া নিয়ে বিরোধিতাকারীদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসলামের ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, আমাদের পূর্বপুরুষরা সব সময় সব ধর্ম ও তার উপাসনালয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সব প্রয়োজন পূরণে আমাদের পূর্বসূরীরা সর্বদা সচেষ্ট ছিল। তাই সবার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হবে। বর্তমানে মুসলিমবিশ্বে অমুসলিমদের জন্য নিরাপদের নিজেদের উপাসনার ব্যবস্থা আছে। তাদের কোনো সমস্যা ও সংকট মোকাবেলা করতে হয় না। এমন সম্প্রীতি বিশ্বের সবার গভীরভাবে দেখা উচিত।’

সূত্র : আল জাজিরা নেট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *