মাহমুদ মাদানির চেষ্টায় দিল্লী দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত টায়ার মার্কেটের কাজ সম্পন্ন
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর সেক্রেটারী জেনারেল, ফেদায়ে মিল্লাত আসআদ মাদানী রহ. তনয় মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানীর চেষ্টায় দিল্লি দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত গকুলপুরী টায়ার মার্কেটের ৯৭টি দোকান এবং ইবাদত খানার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
শুক্রবার পবিত্র জুম’আর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে টায়ার মার্কেট পুনরায় চালু করা হয়।
জমিয়তে উলামা হিন্দের দপ্তার সম্পাদক মুবাশ্বির হাসান পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উপস্থিত মুসল্লিগণ বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মহাসচিব মাওলানা মাহমুদ মাদানী ও সর্বভারতীয় জমিয়তের সভাপতি হযরত মাওলানা ক্বারী ওসমান মনসুরপুরী, জমিয়তে উলামা হিন্দ সম্পাদক মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসেমী, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামার সভাপতি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরীসহ সব জমিয়ত কর্মীদের খেদমতকে আল্লাহ তাআলা কবুল করুন। আল্লাহ তাআলা তাদের হায়াতে বরকত দান।
জমিয়তে উলামা হিন্দ সম্পাদক মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসেমী জুমার নামাজে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমকে জানান, আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, এটি টায়ার মার্কেট নামে খ্যাত। এখানে দুশো চব্বিশটি দোকান রয়েছে।৯৭টি দোকান দাঙ্গাবাজরা জ্বালিয়ে দিয়েছিল। এ দোকানগুলো জমিয়তে উলামা হিন্দ পুন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। আজ পূরণ হয়ে গেছে কাজ। আলহামদুলিল্লাহ। সঙ্গে একটি ইবাদতখানা, মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেছে। টায়ার মার্কেটের সভাপতি, সেক্রেটারীর পরামর্শক্রমে এ মার্কেটের নাম হবে জমিয়ত টায়ার মার্কেট। তারা এ বিষয়ে জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানীর সঙ্গে কথা বলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে জমিয়তে উলামা হিন্দে সেক্রেটারী জেনারেল, জানেশীনে ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যিদ মাওলানা মাহমুদ মাদানী সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে দিল্লী দাঙ্গায় জর্জরিত মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু হয়। জানা গেছে, উত্তরপূর্ব দিল্লীর টায়ার মার্কেটের ৬৫টি দোকানের পুনর্নির্মাণ ও ২৫টি দোকানের মেরামতির কাজ ইতোমধ্যেই খুব দ্রুতই শেষ হয়।
দোকান মালিকদের অভিনন্দন জানিয়ে জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী বলেন, আপনাদেরই সবার আগে শুকরিয়া জানাই। আপনারা আমাদেরকে এ খেদমত করার সুযোগ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আল হামদুলিল্লাহ, ইবাদত খানার সূচনাও হলো। সবই আল্লাহর মেহেরবানী। আপনাদের কষ্ট, পরিশ্রমকে আল্লাহ কবুল করুন। জমিয়তের যে নেতৃবন্দ, দোকান মালিকগণ যারা যেভাবে পরিশ্রম করেছেন সবাইকে আল্লাহ তাআলা উত্তম প্রতিদান দান করুন। সবাইকে আল্লাহ তাআলা ইখলাসের সঙ্গে কাজ করার তাওফিক দিন।
জমিয়তে উলামা হিন্দের কেন্দ্রীয় দফতর দিল্লীর বরাতে এ তথ্য জানা যায়। জানা গেছে, জমিয়তে উলামা হিন্দের মহাসচিব মাওলানা মাহমুদ মাদানী এ নির্মাণ কাজের সরাসরি তত্ত্বাবধান করেছেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়ে আসছিলেন।
এর আগে করোনাকালের বিপজ্জনক সময়েও তদন্তের নামে মুসলিমদের গ্রেফতার করায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারী মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী। তিনি এ জাতীয় তদন্ত স্থগিতেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তখন দিল্লির দাঙ্গার তদন্তের আড়ালে তালাবন্ধক সত্ত্বেও, জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ (সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ মাদানী) পুলিশ মুসলিম সংখ্যালঘুদের অব্যাহতভাবে গ্রেফতারে স্থগিত চেয়ে আবেদনের শুনানি করা হয়। দিল্লি হাইকোর্ট পুলিশকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ডি কে বসু বনাম ১৯৭৭ মামলায় যে কোনও গ্রেপ্তার বা ভবিষ্যতের কোনও গ্রেপ্তার চালানোর সময় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দেন। বিচারপতি সিদ্ধার্থ মুরিদলের বিচারপতি সিংয়ের দ্বি-বিচারকের বেঞ্চ তার আদেশে আরও বলেছিল যে গ্রেপ্তারকৃতরা নিম্ন আদালতে নিয়মিত জামিনের জন্য আবেদন করতে পারে। আগামী শুনানির জন্য আদালত তিন জুনের দিন ধার্য করেছেন।
উল্লেখ্য, জমিয়তে ওলামা-ই-হিন্দ তাদের আইনজীবী অনুপ জর্জ চৌধুরী, জুন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নিয়াজ ফারুকী এবং অ্যাডভোকেট তৈয়ব এর সহযোগিতায় ৫ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি আবেদন করেছিলেন যাতে বলা হয়েছিল যে এমন সময়ে যখন পুরো দেশটি করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। দিল্লি পুলিশ ফেব্রুয়ারিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আড়ালে মুসলিম যুবকদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠাচ্ছে। আদালতে জামিয়ত উলামায়ে হিন্দ এই সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ৩২ জনের নাম উপস্থাপন করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা জাফরাবাদ, মোস্তফাবাদ, ব্রহ্মপুরীর বাসিন্দা।



