জরিমানার পর খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের অভিযানের পর চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রেখেছে আড়তদাররা। রবিবার অভিযানের পর সোমবার সকাল থেকে আড়ত বন্ধ রেখে সড়কে বিক্ষোভ করছেন। তাদের দাবি, আড়তদাররা কমিশনে পেঁয়াজ বিক্রি করেন। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের কোনও ভূমিকা নেই।
আমদানিকারকরা যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বলেন, তারা সেই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেন। তাই দাম বৃদ্ধির জন্য আড়তদারদের জরিমানা করা অযৌক্তিক। কিন্তু, এরপরও অভিযান চালিয়ে অনেক আড়তদারকে জরিমানা করছে জেলা প্রশাসন। তবে ব্যবসায়ীদের তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক বলেন, অভিযান পরিচালনার সময় আমরা আড়তদারদের কাছে আমদানিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম কত পড়েছে আর তারা কত বিক্রি করছেন সেইসব কাগজপত্র দেখতে চাই। তারা বিক্রির কাগজপত্র দেখালেও আমদানির কোনও কাগজপত্র আমাদের দেখাতে পারেনি। তাই তাদেরকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, তারা আমাদের বলে আমদানিকারক তাদেরকে যত টাকা করে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বলেছে তত টাকা করেই তারা পেঁয়াজ বিক্রি করছে। কিন্তু আমদানিকারক যে তাদের বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছেন এর পক্ষেও তারা কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এর মানে আমদানিকারক এবং আড়তদার একই লোক। না হয় তাদের কাছে আমদানিকারকের দেওয়া লিখিত নির্দেশনা থাকবে না কেন? আমরা সব আড়তদারকে বলে দিয়েছি আমদানি এবং বিক্রির তথ্য দোকানে রাখতে। দুইটা দেখে আমরা বুঝবো তারা দাম বাড়িয়েছে কিনা। তারা যদি কাগজপত্র না রাখে, তাহলে আমরা ধরে নেবো তারা অতিরিক্ত লাভের আশায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আর কাগজপত্র দেখাতে না পারলে আমরা আগামীতেও অভিযান চালিয়ে জরিমানা করবো।
উল্লেখ্য, দুইদিনের ব্যবধানে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে খাতুনগঞ্জে অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ বাজারে অভিযান চালিয়ে পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজির অভিযোগে ১০ আড়তদারকে জরিমানা করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক। এর প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে আড়ত বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন আড়তদাররা। প্রশাসন নমনীয় না হওয়া পর্যন্ত তারা পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রাখবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, সংগঠন থেকে কোনও কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। জরিমানার শিকার ব্যবসায়ীরা আড়ত বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন। পরে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অন্য আড়তগুলোও বন্ধ রাখা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসন পেঁয়াজ আমদানির কাগজপত্র দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমদানিকারকরা আমাদের কোনও কাগজ দেন না। তারা মৌখিক নির্দেশ দিয়ে ট্রাকে মাল পাঠিয়ে দেন। দাম বাড়ানোর সঙ্গে তারাই জড়িত। প্রশাসন আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তখন আর ঝামেলা তৈরি হবে না।


