কথা কিন্তু সেটা না | রশীদ জামীল

কথা কিন্তু সেটা না | রশীদ জামীল

কথা কিন্তু সেটা না | রশীদ জামীল

আনাস মাদানীকে হাটহাজারী ছাড়তে হবে- এটা সবাই জানতো। তবে বাবার জীবদ্দশায়ই তাকে বিতাড়িত হতে হবে- এমনটি সম্ভবত কেউই ভাবেননি। কথা কিন্তু সেটা না।

শাহ আহমদ শফী দা:বা: এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা। পিতার হাতে পুত্র বহিস্কার। ভাগ্যিস! পিতা আজ পরিপূর্ণ বাহুঁশ নেই। তাহলে এই সদমা বহন করতে কষ্ট হতো তাঁর। কথা আজ সেটাও না।

উপস্থিতির স্বাক্ষর কলামে শায়খের স্বাক্ষর আরবিতে, কিন্তু সভাপতির স্বাক্ষর কলামে ইংলিশ। অবস্থার প্রেক্ষিতে ভাবা যায়, অনেকের সামনেই স্বাক্ষরটি তিনি করে থাকবেন। আর এই সময়ে অন্তত কেউ ছল-চাতুরির আশ্রয় নেবেন বলে মনে হয় না।.সুতরাং স্বাক্ষরটি তাঁর নিজেরই- বিশ্বাস করা উচিত। কথা সেটাও না।

মাওলানা আনাস মাদানী ২০১৩ থেকেই আলোচিত/সমালোচিত। হেফাজতের নাম ভাঙিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শাপলা-আহতের চিকিৎসার জন্য পাঠানো কাড়ি কাড়ি টাকায় চট্টগ্রামে সুউচ্চ ইমারত তৈরির কথাও অনেকের মুখে শোনা যায়। কথা আজ সেটাও না।

যে আহমদ শফীকে বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম মাথায় তুলে রেখেছিলাম, যার একটি আহবানে লক্ষ লক্ষ কওমি-জনতা জীবন বিলিয়ে দিতে রাজি হয়ে যেতো, তেমন একজন মানুষ, আজকাল কওমি প্রজন্ম তাঁর মৃত্যু কামনা করে! সিনিয়ার উলামায়ে কেরাম নীরব থাকেন! একজন আনাস তাঁকে কোথায় নিয়ে নামিয়েছে- কথা আজ সেটাও না।

কথা হলো,
গতকালের হাটহাজারী কওমি অঙ্গনকে নতুন যে ম্যাসেজটি দিলো, বাংলাদেশের অন্যান্য মাদরাসা কি সেই ম্যাসেজটি রিড করতে পারছে? যারা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উত্তরাধীরার সূত্রে পাওয়া নিজস্ব সম্পদ মনে করেন, তারা কি তাদের ভাবনায় পরিবর্তন আনবেন?

কথা হলো,

হাটহাজারী, বেফাক ইস্যুতে চলমান অস্থিরতা নিরসনে বাংলাদেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামকে আমরা যথাসময়ে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। শুরুতে অস্বচ্ছতার লাগাম টেনে ধরতে পারলে জল আজ এতদূর গড়াত না।

কথা হলো,
এই যে কালচার শুরু হলো, এটা কি প্রথম? এটাই কি শেষ? ব্যাপারটা কি আশা জাগানিয়া? এই ধারা অব্যাহত থাকবে না- কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে? ঐতিহ্যের নীতিগত মৃত্যুর আর বাকি আছে?

তারপর কী?

তারপরে কে?

সুতরাং,
সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ব্যক্তি এবং দলীয় সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে দ্বীনি এই এদারাগুলোকে রক্ষা করার শপথ নিন। নিজের মাদরাসা এবং নিজেদের বোর্ডগুলোকে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছারারিতা থেকে বের করে নিয়ে আসুন। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্তদের সাসপেন্ড করুন। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করে শাস্থির মুখোমুখী করুন।

যদি না করেন,
এখনও যদি না জাগেন,
আজ যে তীর আনাসকে দগ্ধ করেছে, কাল সেই তীর আপনার দিকে তাক হবে না- এই গ্যারান্টি আপনাকে কেউ দিতে পারবে না।
লেখক : কলামিস্ট

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *