কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়নে সমুদ্রসম্পদের সুরক্ষা বাড়বে
সমুদ্রবন্দরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলভাগ। এ জলভাগ দিয়েই দেশের সুরক্ষা বিনষ্ট হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নতিও এ পথ দিয়েই আসতে পারে। দেশকে সুরক্ষার জন্য আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি ছিল। উন্নত বিশ্বের মতো করেই দেশের কোস্ট গার্ডকে এগিয়ে নিতে হবে। এর কোনো বিকল্প হতে পারে না। স্থলভাগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশের জলভাগ। কারণ এই জলভাগেও রয়েছে প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার।
স্বাধীনতার পর বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে আইন করেছিলেন। তারপর চার দশকে এ লক্ষ্যে আর কিছুই করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা যদি জিয়াউর রহমানের সরকারের কথা বলি, এরশাদ সরকারের কথা বলি বা খালেদা জিয়ার সরকারের কথা বলি, যার কথাই বলি—একজনও মেরিটাইম বাউন্ডারিতে আমাদের যে অধিকার আছে, সেই অধিকারের কথাটা কখনো উল্লেখ করেনি।’ আবার বঙ্গবন্ধুকন্যা ক্ষমতায় আসার পরই আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকাজুড়ে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন সেই ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতিকে কাজে লাগানোর প্রস্তুতি চলছে। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো ৯টি জাহাজ। রবিবার এই ৯টি জাহাজ এবং ভোলায় একটি ঘাঁটির কমিশনিং প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় মূল্যবান ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম পাওয়া গেছে। সেগুলোর বাণিজ্যিক আহরণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও জার্মানির যৌথ জরিপে অগভীর সমুদ্রের ১৩টি স্থানে সন্ধান মিলেছে ভারী খনিজ বালুর। এই বালু ইলমেনাইট, গার্নেট, সিলিমানাইট, জিরকন, রুটাইল, ম্যাগনেটাইটসহ বিভিন্ন মূল্যবান খনিজসমৃদ্ধ। ৩০ থেকে ৮০ মিটার গভীরতায় বেশ কিছু স্থানে এক ধরনের ক্লের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সিমেন্টশিল্পের অন্যতম কাঁচামাল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ক্লে উৎপাদন করা গেলে বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পে রীতিমতো বিপ্লব ঘটে যাবে। বঙ্গোপসাগরের প্রাথমিক সম্পদ হচ্ছে মাছ। মাছসহ প্রাণিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়ার লক্ষ্যে অনুসন্ধানকাজ করে যাচ্ছে অত্যাধুনিক গবেষণা জাহাজ ‘আরভি মীন সন্ধানী’। বাংলাদেশের জলসীমায় গ্যাসেরও বড় মজুদ রয়েছে। জলসীমার বিপুল এই সম্পদ কাজে লাগানোর জন্য আমাদের প্রস্তুতি বা সক্ষমতা ছিল না বললেই চলে। ছিল না প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি কিংবা দক্ষ জনবল। আছে অর্থেরও অভাব। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। সমুদ্রসম্পদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আধুনিকায়নের অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জেলেরা মাছ ধরে নিয়ে যেত। এখন তা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যু ও তস্করদের উৎপাত বিদেশি নাবিকদের বড় মাথা ব্যথার কারণ ছিল। এখন তা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্ব দেখছে। স্থলভাগের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে জলভাগেও সমানতালে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে চলেছে। আমরা মনে করি, সম্পদের সুরক্ষায় আরো যত্নবান হতে হবে। নীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।


