ওয়ার্ল্ড ডেস্ক : মিসরে জনাকীর্ণ একটি মসজিদে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের বোমা বিস্ফোরণ ও গুলিতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৩০৫-এ দাঁড়িয়েছে। দেশটির নর্থ সিনাই প্রদেশে গতকাল শুক্রবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শতাধিক আহত হয়েছে। মিসরের তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলাকারীদের কাছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পতাকা ছিল।
মিসরের সরকারি আইনজীবী বলেছেন, মোট ৩০ জন হামলাকারীকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এরই মধ্যে ‘সন্ত্রাসী’ ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, এ হামলার ‘কড়া জবাব’ দেওয়া হবে। টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রামের প্রচেষ্টা থামানোর জন্যই এ হামলা করা হয়েছে।’
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, হামলার পরপরই দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকেন। এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
মিসরের সংঘাতময় সিনাই অঞ্চলে চালানো অন্যতম ভয়াবহ হামলা এটি। ওই অঞ্চলে ইসলামি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। বিশেষ করে সিনাইয়ের উত্তরে জঙ্গি সংগঠন আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নিরাপত্তা বাহিনী। গত তিন বছরে দুই পক্ষের লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।
এল আরিশ শহরের পশ্চিমে বির আল-আবেদ এলাকার আল-রাওদা মসজিদে গতকাল প্রথমে বোমা হামলা চালানো হয়। পরে হামলার শিকার ব্যক্তিরা মসজিদ থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর গুলি করে হামলাকারীরা। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়া হয়। প্রত৵ক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, হামলাকারীদের অনেকে মুখোশ পরে ছিল এবং কয়েকজনের পরনে ছিল সামরিক পোশাক। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বার্তা সংস্থা এমইএনএর খবরে প্রাথমিকভাবে ২৩৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল। আজ নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০টি শিশুও রয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সুফি অনুসারীরা প্রায়ই ওই মসজিদে জমায়েত হতেন। আইএসসহ জিহাদি সংগঠনগুলো সুফি অনুসারীদের কাফের বলে বিবেচনা করে থাকে।
সিনাইয়ে জঙ্গিরা এ পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কয়েক শ সদস্যকে হত্যা করেছে। ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভের পর থেকেই এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। সেখানে জঙ্গিদের বেশির ভাগ হামলার লক্ষ্যবস্তুই হলো নিরাপত্তা বাহিনী। তবে তারা মিসরের গির্জা ও তীর্থযাত্রীদের ওপর আক্রমণের মাধ্যমে হামলার পরিধি উপদ্বীপের বাইরেও প্রসারিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


