পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রথম ভাষণে চীন ও রাশিয়ার প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন জো বাইডেন। স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিতে হাঁটছেন না তিনি। সবাইকে সতর্ক করে বাইডেন বলেন, ‘আমেরিকা ইজ ব্যাক’ তথা ‘আমেরিকা আবার স্বমহিমায় ফিরে এসেছে’।
বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরে ভাষণ দেন জো বাইডেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রথম ভাষণ।
এ ভাষণে বাইডেন তার প্রশাসনের রাশিয়া ও পুতিনবিরোধী অবস্থান জানান দেন। রাশিয়ার প্রধান বিরোধী নেতা অ্যালেক্সাই নাভালনির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের অমানবিক আচরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এতদিন কিছু বলেনি। কিন্তু তা আর চলতে দেওয়া হবে না। পুতিনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।’ বাইডেন আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ব্যাপারটা বেশ পরিষ্কার করেই বুঝিয়ে বলেছি। তবে আমার পূর্বসূরির (ট্রাম্প) ঢঙে নয়। আমি তাকে বলেছি রাশিয়ার সুরে সুর মেলানোর দিন শেষ। মার্কিন নির্বাচনে তাদের হস্তক্ষেপ, আমেরিকার উপর সাইবার আক্রমণ আর মেনে নেওয়া হবে না। এমনকি রাশিয়ার নাগরিকদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ, নাগরিকদের উপর বিষ প্রয়োগের ঘটনাও মেনে নেওয়া হবে না। তেমন হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে একবারও ভাববে না যুক্তরাষ্ট্র।’
ভাষণে চীনের প্রতিও কড়া বার্তা দিয়েছেন জো বাইডেন। দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগী বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বেইজিংয়ের সঙ্গে আমরা তখনই কাজ করব যখন তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হবে। তবে চীনের আগ্রাসী আচরণ মোকাবিলা করব আমরা। অর্থনৈতিক বিধিমালা লঙ্ঘনের জন্য তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। মেধাসত্ব চুরি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিশ্বের সরকার ব্যবস্থার ওপর আক্রমণের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত এই প্রেসিডেন্ট বলেন ‘আমি যা করতে চলেছি, তার কেন্দ্রে রয়েছেন আপনারা। আমাদের বিশ্বশক্তির কেন্দ্রে পৌঁছতেই হবে। দেশের কূটনীতি আবার আগের মেজাজে ফিরবে। আমেরিকাকে তার পুরনো জায়গায় ফেরাতেই হবে।’
![]()


