রাজনৈতিক দলের কার্যালয় যাচাই করবে ইসি

রাজনৈতিক দলের কার্যালয় যাচাই করবে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক ●  নিজস্ব কর্মকর্তাদের দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয় ও কর্মকা- যাচাই করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিবন্ধিত দলগুলো ইসির শর্ত প্রতিপালন করছে কিনা এবং যারা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে, সেসব দল শর্তপূরণ করছে কিনা, তা মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে খতিয়ে দেখবে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এভাবে দলগুলোর তথ্য যাচাই করে নিবন্ধন বহাল রাখা বা নতুন নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের দুই দফায় নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন থেকে তথ্যগুলো যাচাই করা হলেও বিভিন্ন ফাঁক-ফোঁকড় গলে কিছু নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দল ইসিতে নিবন্ধিত হয়েছে। কোনও কোনও দলের ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে নিবন্ধিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ কারণে এবার প্রধান ও বিদ্যমান রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বহাল রাখার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি অবস্থান নিয়েছেন কেএম নূরুল হুদা।

সূত্র আরও জানায়, এবার নামসর্বস্ব দল কোনোভাবে যাতে নিবন্ধন না পায় সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার একনেতা, একদলÑ এমন কোনও রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নতুন নিবন্ধনের পাশাপাশি নিবন্ধিত কোনও দলের শর্ত প্রতিপালনে ব্যত্যয় ঘটলে তাদের বিরুদ্ধেও নিবন্ধন বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তের দিকে যাবে কমিশন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নতুন দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আগ্রহী দলগুলোর কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু করেছে। আগ্রহী দলগুলোকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দলের লেটারহেড প্যাডে আবেদন করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে দলের গঠনতন্ত্রসহ আরও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে নতুন দলের নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণের পাশাপাশি বিদ্যমান নিবন্ধিত দলগুলো ইসির শর্ত প্রতিপালন করছে কিনা, তা জানতে ওই দলগুলোকে আলাদা চিঠি দিয়েছে কমিশন। গত ২১ নভেম্বর চিঠির জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। ৪০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে দুই ডজনের মতো রাজনৈতিক দল জবাব দিয়েছে। বাকিগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ইসিতে চিঠি দিয়ে সময় চেয়েছে। আর ডজনখানেক দল কোনও জবাব দেয়নি, বা সময়ের জন্য আবেদনও করেনি। কমিশন গত বুধবার এই দলগুলোকে শোকজ করে নতুন চিঠি দিয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন নিবন্ধনে রাজনৈতিক দলের আবেদন ও বিদ্যমান দলগুলোর নিবন্ধনের শর্তপূরণের জবাব প্রাথমিক বাছাইয়ের পর,  প্রদত্ত তথ্যাদি মাঠ পর্যায়ে যাচাই করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেবে কমিশন। নিবন্ধিত ও নিবন্ধনে আবেদিত দলগুলোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শর্ত মাফিক কার্যালয় বা তার কর্মকা- রয়েছে কিনা, তার খোঁজ করতে মাঠে নামবে ইসির মাঠ প্রশাসন। নিজস্ব কর্মকর্তাদের থেকে মাঠের প্রকৃত তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাইবাছাইয়ের মাধ্যমে কমিশন আগামী বছরের মার্চে পুরনো ও নতুন দল মিলিয়ে নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ২০০৮ ও ২০১২ সালে দুই দফা রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দিয়েছে। ২০০৮ সালে ৩৯টি এবং ২০১২ সালে দু’টি দলকে নিবন্ধন দেয়। জানা গেছে, ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার সরকারের সময়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্তপূরণ না হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া, তখন নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় ও সময় স্বল্পতার কারণে কিছু দলের শর্তপূরণ না হলেও ভবিষ্যতে তারা পূরণ করবে এই প্রতিশ্রুতিতে নিবন্ধন দেওয়া হয়। পরে ওই দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি দল শর্তপূরণ করে ইসিতে তথ্য জমা দেয়। তবে এখনও কোনও কোনও দল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শর্ত  পূরণ করেনি। ২০১২ সালেও নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৮ ও ২০১২ সালে নিবন্ধনের আগে কমিশন তাদের মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করলেও ওই সময় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নতুন নিবন্ধন ও নিবন্ধনের শর্ত প্রতিপালনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

তিনি জানান, নিবন্ধনের আবেদনের জন্য ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় রয়েছে। সময় শেষ হলে প্রাপ্ত আবেদনগুলো প্রাথমিকভাবে বাছাই করে কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। তখন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আর নিবন্ধনের শর্ত প্রতিপালন করছে কিনা তা জানাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ইসি যে চিঠি দিয়েছিল, বেশ কিছু দল তার জবাব দিয়েছে। কয়েকটি দল সময় চেয়েছে। আর যারা এখনও চিঠির জবাব দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, যারা নিবন্ধনের শর্তপূরণ করবে না তাদের নিবন্ধন না দেওয়ার ক্ষমতা যেমন ইসির আছে, তেমনি নিবন্ধন পাওয়ার পর শর্ত প্রতিপালন না করলে, তাদের নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ারও কমিশনের রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, দুটো বিষয়ের কার্যক্রম এখনও কমিশন সচিবালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সচিবালয় বিষয় দুটি যখন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবে, তখনই তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। আরপিও অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেওয়া বা বাতিলের এখতিয়ার কমিশনের রয়েছে। কাজেই সব শর্ত পূরণ হলেই যোগ্য দলগুলোকে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে। আর শর্ত পূরণ হচ্ছে কিনা, তাও যথাসম্ভব সব প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে। এ ক্ষেত্রে দলগুলো যেসব জেলা বা উপজেলায় তাদের অফিসের তথ্য দেবে, আমাদের নিজস্ব কর্মকর্তাদের দিয়ে সেগুলো অবশ্য যাচাই করবো। নিবন্ধিত দলগুলোর শর্ত প্রতিপালনের বিষয়টিও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে তথ্য নেওয়া হবে বলে জানান এই কমিশনার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *