মিয়ানমারে বিক্ষোভের প্রথম বলি এক তরুণী

মিয়ানমারে বিক্ষোভের প্রথম বলি এক তরুণী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে চলমান বিক্ষোভের প্রথম বলি হলেন এক তরুণী। পুলিশের গুলিতে মারা যাওয়া ২০ বছর বয়সী ওই নারীর নাম মিয়া থতে থতে খাইং।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, শুক্রবার বেলা ১১টায় মিয়া থতে থতে খাইংয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে এই প্রথম কোনো বিক্ষোভকারী মারা গেলেন। গত সপ্তাহের শুরুতে রাজধানীর নেপিদোতে বিক্ষোভের সময় ওই তরুণীর মাথায় পুলিশের গুলি লেগেছিল। খাইংয়ের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে পরীক্ষা করে সুরতহাল প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, আমরা ন্যায়বিচার চাই। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ওই নারীকে নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতাল কর্মীদের ওপর ব্যাপক চাপ এসেছে।

গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে হটিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর নিরাপত্তা বাহিনীর ধরপাকড়ে এই প্রথম কোনো মৃত্যুর খবর এসেছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সেনাবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে তা সহিংস হয়ে ওঠে। তখন তাজা গুলিতে আহত অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন।

সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ও তথ্যমন্ত্রী জ মিন টুন চলতি সপ্তাহে মিয়া থতে থতে খাইংয়ের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আহত হওয়ার পর থেকে প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন মিয়া থতে থতে খাইং। বিক্ষোভকারীদের বড় বড় ব্যানারে তার ছবি দেখা গেছে। তারা ন্যায়বিচার দাবি করেন।

এক চিকিৎসকের বরাতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানায়, ডান কানের পেছন দিয়ে একটি ধাতব বুলেট তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছে।

নিহতের ভাই ইয়ে তুত অং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, আমি সত্যিই বিধ্বস্ত! কিছু বলার নেই। দুয়েকদিন হলো সে ২০ বছর বয়সে পা দিয়েছিল।

সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরুর পর এটা প্রথম মৃত্যু। এছাড়া এতে অন্তত ২০ বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। তরুণদের নেতৃত্বে প্রধান শহরগুলোতে যে তিন দাবিতে বিক্ষোভ চলছে সেগুলো হচ্ছে; অং সান সু চিসহ বেসামরিক নেতৃবৃন্দের মুক্তি দেয়া, ২০২০ সালের নির্বাচন এবং তাতে এনএলডির জয়কে স্বীকৃতি দেয়া এবং রাজনীতি থেকে সেনাবাহিনীর সরে আসা।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *