পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অতিথিদের সঙ্গে করোনাভাইরাস পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ রাখা বাধ্যতামূলক। সনদের মেয়াদ ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে কেউ ডিস্টার্ব করবে বলে মনে করেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বুধবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গঠিত নিরাপত্তাবিষয়ক উপকমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম, জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনুষ্ঠানে আসা রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, বিশিষ্ট ব্যক্তিরাসহ বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। সব অনুষ্ঠানে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। তিনি আরো জানান, বিভাগ, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বছরব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করা হলো।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে কোনো বিক্ষোভ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না—প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো গোপন সংবাদ নেই। এ ধরনের পরিস্থিতি হবে কি না, এই মুহূর্তে তা বলতে পারছি না। আমরা মনে করছি সবাই বাংলাদেশকে ভালোবাসে, সবাই বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে, জাতির পিতার উৎসবে কেউ ডিস্টার্ব করবে বলে আমরা মনে করি না। গণতান্ত্রিক দেশে বাকস্বাধীনতা রয়েছে। আমি মনে করি এ ধরনের কোনো সিচুয়েশন হবে না।’
কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে করতে হচ্ছে, সে জন্য বড় আকারে জনসমাগম করা হচ্ছে না। যাঁরা দাওয়াত পাবেন, আমরা প্রত্যেককে বলে দিচ্ছি কভিড টেস্ট করাতে হবে, এটা বাধ্যতামূলক। এটার মেয়াদ থাকবে ৪৮ ঘণ্টা। নেগেটিভ রিপোর্টটি তাঁরা সঙ্গে নিয়ে আসবেন, যাতে সেখানে অন্য কোনো পরিস্থিতি না হয়। আমরা কভিড পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুন্দর অনুষ্ঠান করতে চাই, যাতে আমরাও দেখাতে চাই এমন একটি অনুষ্ঠান করার সক্ষমতা এই রকম পরিস্থিতিতে আমাদের আছে।’
আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্বের বালাই নাই, সংক্রমণ তো বাড়বেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘১০ দিনের অনুষ্ঠানে ফিজিক্যালি হচ্ছে চার দিন। ওই চার দিনের অনুষ্ঠানেই আমন্ত্রিত অতিথিরা থাকবেন। বাকি ছয় দিন প্রগ্রামটা সরাসরি করব, সেখানে কাউকে আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি না। তবে চার দিনের অনুষ্ঠানও সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। এখন পর্যন্ত এইভাবেই অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে।’
কতগুলো দেশ থেকে আমন্ত্রিতরা আসবেন জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম বলেন, ‘ভারত ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী, মালদ্বীপ ও নেপালের রাষ্ট্রপতির সফর নিশ্চিত হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।


