আব্দুস সালাম ● ‘একশন একশন, ডায়রেক একশন’ তাগুতের আস্তানা বাংলাদেশে হবে না’ এজাতীয় নানান স্লোগান মুখরিত বেফাক ভাঙ্গাপ্রেস ও বিমানবন্দর চত্বর । না এ কোন রাজনৈতিক সমাবেশ না। না পাড়ার ছেলেছোকড়াদের চা বিড়ির লোভে পড়ে গলা ফাটানো কোন মিছিলের স্লোগান। এ আলেমদের পবিত্র জবানের উচ্চারণ। মাওলানা সা’দ বিরোধী আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক কওমী মাদরাসার সোনার ছেলেদের মুখনিঃসৃত ভাষা।
ভিডিও ক্লিবটিগুলো দেখে লজ্জা ও ঘেন্নায় চোখ ফিরে আসছিলো।
মাওলানা সাদ সাহেবের বিষয় ইন্ডিয়ায় যা বাশি হয়ে গেছে, আমরা তা এখন মজা করে খাচ্ছি। দেওবন্দ ও তার মাঝে সব কিছু বহু আগেই নিরসন হয়ে গেছে। তা বারবার দারুল উলুমের মাশায়েখগণের বিভিন্ন ফোন কলের মাধ্যমে উঠে এসেছে। তা আমরা অকারণেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছি।
বুধবার বেশ কয়েকটা মাদরাসার তাফসির ও হাদিসের ঘণ্টা বাদ দিয়ে বেফাঁস স্লোগান দেওয়ার জন্য ছাত্রদেরকে ভাড়া করে আনা হয়েছে। হাদীসের দরসের চেয়ে বেফাঁস স্লোগান দেওয়াই এখন আমাদের কাছে উত্তম হিসেবে ধরা দিয়েছে। মাদরাসা থেকে বের করে এনে ছাত্রদেরকে বয়োজ্যেষ্ঠ খান্দানি কোন মুরব্বি আলেমের বিরুদ্ধে যারা এই আলাভোলা তরুণ ছাত্রদের মুখ দিয়ে যাচ্ছেতাই বাক্য বের করে -আসলে আমরা ফেতনার ময়দানে আরেকবার নিজেদের জাত চেনালাম।
মাওলানা সাদ সাহেব এখন বাংলাদেশে। রাগে ক্ষোভে আক্রোশে মাদারসা ছেড়ে এখন লড়াকু সৈনিকরা বুধবার সারাদিন রাজপথে রোদ পোহাচ্ছেন। দুয়েকজনকে আবার বাদাম চিবাইতেও দেখা গেছে।
মুড়ির টিনের জানালা দিয়ে রুমাল ঘুরাতে ঘুরাতে অনেকে বিমানবন্দরের দিকে গেছেন। ডায়রেক একশন হবে! এদিকে যাদের দান সদকায় লাঠিয়ালদের গতরে এত শক্তি তাদের গাড়ি থামিয়ে চেক চলেছে কয়েক দফা। তবুও সালামতে তিনি কাকরাইল পৌঁছে গেছেন।
মাওলানা সাদ বিরোধী আন্দোলনের ফলাফল এখন সবার সামনে। একান্ত ভেতরগত একটা বিষয় জনসম্মুখে এনে আমরা নিজেদেরকে কোথায় নামিয়েছি বলার অপেক্ষা রাখে না। শেষ পর্যন্ত সাদ সাহেব এলেন, আমাদের চেহারায় পড়লো চুনকালি। এ লজ্জা লুকোবো কোথায়? আমরা কলঙ্কের সাক্ষী হয়ে রইলাম আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে।
লেখক : শিক্ষক, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, জামিআ ইকরা বাংলাদেশ।
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়


