পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অবশেষে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উত্থাপিত একটি রেজুলেশন সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে। যদিও বরাবরের মতো এবারো চীনের মৃদু বিরোধিতা ছিল। তবে সেটা আগের মতো নয়। চীন মৃদু আপত্তি বজায় রাখলেও রেজুলেশনটি পাসের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
জেনেভায় অবস্থিত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন সূত্রে জানা গেছে, চীনের এই ভূমিকার ফলে চূড়ান্ত বিচারে সোমবার (১২ জুলাই) জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের ৪৭তম অধিবেশনে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। যা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রথম জাতিসংঘে রোহিঙ্গা বিষয়ক কোনো রেজুলেশন বা প্রস্তাব বিনা ভোটে অর্থাৎ সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হলো।
এ ঘটনাকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বড় সাফল্য আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে— এই সংকট সমাধানের টেকসই সমাধান হলো অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয় পাওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত এসব মিয়ানমার নাগরিকদের দ্রুত রাখাইনে তাদের আদি নিবাসে প্রত্যাবাসন।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের উদ্যোগে ইসলামিক সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান অধিবেশনে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়।
এতে বলা হয়, আলোচনার শুরুতে মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সদস্যদের মধ্যে প্রস্তাবটির বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। তবে নিবিড় ও সুদীর্ঘ আপস-আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়। যার ফলশ্রুতিতে সর্বসম্মতভাবে মানবাধিকার পরিষদে গৃহীত হয় রেজুলেশনটি। প্রস্তাবে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।


