নিজস্ব প্রতিবেদক : সবকিছুই ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছি। নিকট ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে আপাতত ভাবছিও না। আরেকটি কথা জেনে রাখুন, নিজের জন্য কারো কাছে তদবিরও করতে যাবো না’। বিদায়লগ্নে ‘বিন¤্র বিষণœতায়’ এমনটিই বলছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের বিদায়ী মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। মাত্র একদিন বাদেই সুদীর্ঘ ৩২ বছরের কর্মজীবনকে বিদায় জানিয়ে অবসরে যাবেন শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার নরকলিকাতা গ্রামের সন্তান শহীদুল হক। বুধবারই হচ্ছে পুলিশ বিভাগে তার শেষ কর্মদিবস। নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকে বরণ করে নিতেই ব্যস্ততা সবদিকে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে সেই দিনটিই যেন ফিরে এসেছে। সেদিন বেশ আনন্দ আর উৎসাহে পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শহীদুল হক। বিদায়ের বিষণœতায় আচ্ছন্ন ছিলেন হাসান মাহমুদ খন্দকার। এখন উল্টোচিত্র। সবার উৎসবের ঢেউ যেন নবনিযুক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকে ঘিরে। তবে ব্যতিক্রমও যে আছে, তা আবার প্রমাণ করে দিয়ে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দিলো ঢাকা জেলা পুলিশ। সেই আয়োজনেই আপ্লুত হলেন বিদায়ী আইজিপি শহীদুল হক। ¯্রােতের বিপরীতে গিয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ প্রশাসন ভিন্নভাবে সম্মানিত করলো বিদায়ী আইজিপিকে।
‘আসলেই এটা যে ওদের কতো বড় উদারতা। আমাকে এভাবে সম্মান জানিয়ে ওরা নিজেদের মহৎ হিসেবেই প্রমাণ করেছে। জনগণের কাছে মূল্যায়ন, জবাবদিহি ও তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে বিদায়ী আইজিপি বলেন, ‘যে উচ্চতায় পুলিশকে তুলে ধরেছি, তা যেন বজায় রাখা হয়।’ ‘এই মুহূর্তগুলো আসলেই খুবই কষ্টকর। তিন দশকের কত্তো স্মৃতি। শীর্ষপদ থেকে সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চেনা মানুষের অচেনা রূপ। গাড়ির পেছনে গাড়ির বহর বা প্রটোকলের অনুপস্থিতি কিংবা মিডিয়ার মনোযোগে না থাকা! -সত্যিই মুহূর্তগুলো মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়।’ স্মৃতি হাতড়ে বলছিলেন উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) থেকে অবসরে যাওয়া একজন জাঁদরেল কর্মকর্তা।


