হেদায়েতের মালিক আল্লাহ

হেদায়েতের মালিক আল্লাহ

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

হেদায়েতের মালিক আল্লাহ তায়ালা। তিনি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ দেখান আবার যাকে ইচ্ছা তাকে গোমরাহ বানিয়ে দেন। সব চাবিকাঠি তাঁর কাছে। তিনি দয়াপরবশত যাকে খুশি তাকে হেদায়েত নসীব করেন। আবার তাঁর ইচ্ছানুযায়ী যাকে ইচ্ছা তাকে বিপথে পরিচালিত করেন। এজন্য হেদায়েত লাভের পর কোন বড়াই করা নয়। কোন ফখর বা অহমিকা নয়, বরং আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা উচিত, তাঁর কাছে রোনাজারি করা দরকার। যাতে তিনি হেদায়েত লাভের পর আমাদের অন্তরে বক্রতা ঢেলে না দেন।

পবিত্র কুরআনুল কারীমে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। যেটা উম্মতকে জন্য শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ‘রব্বানা লা-তুঝিগ কুলুবুনা বা’দা ইজ হাদায়তানা ওয়াহাব লানা মিল্লাদুনকা রাতমাতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহাব’ – অর্থাৎ হে দয়াময় আল্লাহ! হেদায়েত লাভের পর আমাদের অন্তরে বক্রতায় ভরে দিওনা। বরং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের উপর রহমত বর্ষণ কর।

এখানে প্রতিটি মুমিন বান্দার জন্য রয়েছে শিক্ষা। হেদায়েত লাভের পর কোন বড়াই নয়, বরং আল্লাহর কাছে বিনয়-নম্রতার সাথে দোয়া চাইতে হবে, তিনি যেন আমাদের হেদায়েতের উপর অটল- অবিচল রাখেন।

মানুষের যে কোন সময় পদস্খলন হতে পারে। পা পিছলে যেতে পারে। গোমরাহীর মধ্যে ডুবে যেতে পারে। তার জন্য মহান প্রভুর নিকটে বারবার দুআ চাইতে হবে। তাঁর দরবারে রোনাজারি করতে হবে। তিনি যেন আমাদের গোমরাহ না বানান। কতো বড় বড় ব্যক্তিত্ব এই দুনিয়াতে এসেছেন। যাদের বুজুর্গি, যাদের সুনাম-সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। কিন্তু সেসব মানুষেরও পা পিছলে গেছে। মহাপরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

হযরত জুনায়েদ বোগদাদী রহ. এর মত দুনিয়া জোড়া খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তির শায়েখ বা পীর, তার পদস্খলন হয়েছিল। যিনি বাগদাদের শাহী মসজিদের খতীব। হাজারো বুজুর্গ আলেমের উস্তাদ, সেই মহান ব্যক্তির পা পিছলে যায়। বড় করুণ অবস্থার শিকার হন তিনি। যেটা ঘটনা ইতিহাসের পাতায় বিরাজমান। এজন্য কার কখন পা পিছলে যায় সেটা কিন্তু বলা যায় না।

আশা এবং ভয় উভয়ের মধ্যে থাকা উচিত। আল্লাহর রহমের আশা আবার তাঁর জাহান্নামের আজাবের ভয় মনের মধ্যে থাকা উচিত। আমরা আল্লাহর রহমতের আশা করব সব সময়। আবার তাঁর ভয় থাকবে অন্তরে সব সময়। বর্তমান খানায়ে কাবার সাবেক রমজানের তারাবীহ এর ইমাম সাহেবের যে ঘটনা ভাইরাল হয়েছে, এটা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। সকলের সতর্ক থাকা দরকার। নিজেকে নাচিজ মনে করে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে হবে। তিনি যে কোন মুহুর্তে যাকে তাকে বিপথে পরিচালিত করতে পারেন। আবার যাকে খুশি তাকে হেদায়েতের রাস্তায় ওঠাতে পারেন।

ইবাদত করে কোনো বড়াই নয়, কোনো অহমিকা নয়। যে কোনো সময় তিনি আমাদের মুখ ফিরিয়ে দিতে পারেন। অনেকে তাজ্জব হচ্ছেন। এখানে তাজ্জব বা আশ্চার্য হওয়ার কিছু নেই। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহু ইয়াহদি মাইয়াশা ইলা সিরাতিম মুছতাকিম’ – অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা যাকে খুশি ছিরাতে মুস্তাকিমের উপর চলার তাওফিক দেন। আবার অন্যত্র বলেছেন, ‘মাই ইউদলিলিল্লাহু ফালা হাদিয়া লাহু’ – অর্থাৎ তিনি যাকে গোমরাহ করেন, তাকে কেউ হেদায়েত দিতে পারে না।

ভাই-বন্ধু, আসুন! মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। তাঁর কাছে রোনাজারি অব্যহত রাখি। বারবার তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তিনি যেন আমাদেরকে হেদায়েতের রাস্তায় পরিচালিত করেন। আমাদের যেন গোমরাহী থেকে দূরে রাখেন। হে দয়াময় আল্লাহ! তুমি আমাদের উপর দয়া কর। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

আরও পড়ুন: আকাবিরে দেওবন্দের নবীপ্রেম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *