পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পবিত্র কুরআন শরীফের মুজিযা কেয়ামত পর্যন্ত প্রকাশ পেতে থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, ফিদায়ে মিল্লাত আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর আল্লাহ তাআলার নাযিলকৃত কালাম। এটিই তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিযা যা সদা সর্বত্র বিদ্যমান। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবীকে একটি মুজিযা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই মুজিযা শুধু সেই নবীর সাথেই খাছ ছিলো। নবী দুনিয়াতে থেকে চলে যাওয়ার পর সেই মুজিযাও আল্লাহ তাআলা উঠিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু কুরআন এমন একটি মুজিযা, যা কেয়ামত পর্যন্ত মুজিযা হয়ে থাকবে। এমনকি কেয়ামতের পরও এই কুরআন থাকবে। হাশরের ময়দানে কুরআন মানুষের পক্ষে-বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে।
শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) বাদ এশা রাজধানীর চৌধুরীপাড়ার শেখ জনূরুদ্দীন রহ. দারুল কুরআন মাদরাসার উদ্যোগে আয়োজিত তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন শেখ জনূরুদ্দীন রহ. দারুল কুরআন মাদরাসার মুতাওয়াল্লী মুহাম্মাদ ইমাদুদ্দীন নোমান।
কুরআনের অলৌকিকতা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, করআনের একটি অলৌকিকত্ব হলো তার ভাষার অলংকার, বর্ণনা ভঙ্গি ও বাক্য গঠন প্রণালী। পৃথিবীর সমস্ত মানুষ ও জিনকে কুরআনের ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে, বলা হয়েছে এর মতো আরেকটি কিতাব আনতে, কেউ পারেনি। এখনও পৃথিবীর কেউ কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরার মতো একটি সূরাও রচনা করতে পারেনি।
কুরআন মানুষের সর্বত্তম জীবন বিধান জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, কুরআনে কারীমের মুজিযা কেবল তার ভাষা, সাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। বরং কুরআনুল কারীমের দেওয়া জীবন-বিধানও একটি অলৌকিক ব্যাপার। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল কারীমে মানব জাতিকে যে হেদায়েত ও দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন, তা সব যুগের সর্বস্থানে সকল শ্রেণীর মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতে সম্ভব। কুরআনের জীবন বিধান মানুষের সব অভাব মিটিয়েছে, সব প্রয়োজন পূরণ করেছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, মানব রচিত আর কোনো জীবন বিধান মানুষের সব প্রয়োজন পূরণ করতে পারেনি।



