‘ইসলাম’ খুবই সহজ একটি ধর্মব্যবস্থা
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘ইসলাম’ খুবই সহজ-সরল একটি ধর্মব্যবস্থার নাম বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেছেন, ‘ইসলাম’ ধর্মে কঠিন কোনো বিষয় নেই। মানুষের উপর কোনো কঠিন বিষয়কে চাপিয়ে দেয়া হয়নি এ ধর্মে। মানুষের জীবনব্যস্থাকে সুন্দর ও বর্ণীল সাজে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে ইসলামের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। ইতিহাস সাক্ষী, আর কোনো সমাজব্যবস্থাই মানবজীবনের জন্য চিরন্তন সমাধান হতে পারেনি। আর কোনো ধর্মই মানুষকে চিরস্থায়ী সুখের সন্ধান দিতে পারেনি, পারবেও না। একমাত্র ‘ইসলাম’ ধর্মই মানুষকে চিরস্থায়ী সুখের সন্ধান দিয়েছে। সেই সাথে, সুখী হতে হলে কী কী পদক্ষেপ মেনে চলতে হবে তার প্রতিটি বিষয়কে সুচারুভাবে বর্ণনা করেছে।
শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) ইকরা ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ইসলাম’ ধর্মের করণীয় কাজগুলো খুবই সহজ উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করাটা খুবই সহজ। শুধুমাত্র একটি কালিমা পড়ার দ্বারা মুসলমান হওয়া যায়। সেটা হলো “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহুম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”। ইসলাম ধর্মের বিধি-বিধানগুলোও একেবারেই সহজ ও সরল। মুসলমান হওয়ার পর সর্বপ্রথম কাজ প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। বছরে একটি মাস তথা রমজান মাসে রোজা রাখা। সারা জীবনে একবার হজ্ব করা এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে যাকাত দেওয়া। কতোই না সহজ এই ধর্ম।
ঈমানের জন্য কেবল দৃঢ় মনোবলই যথেষ্ট জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, ঈমান আনার পর ঈমান ধরে রাখাটা সবচেয়ে জরুরী ব্যাপার। আর ঈমান ধরে রাখার জন্য বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। কেবল একটু দৃঢ় মনোবলই যথেষ্ট। গুনাহের কাজে না জড়ানোর জন্য প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি চাই।
খেয়াল করতে হবে কোন পথে আয় করছি, কোন পথে ব্যায় করছি। আমার আয়-রুজি হালাল হচ্ছে তো? হারাম পথে অর্থ উপার্জন করছি না তো? এই দৃঢ় মনোবল যার থাকবে, তার জন্য ঈমান ধরে রাখা খু্বই সহজ একটি ব্যাপার।
তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরামকে রাসূল সা. বিভিন্ন সময় আল্লাহর রাস্তায় জান-মাল ব্যয় করার প্রতি নসিহত করতেন। সাহাবায়ে কেরাম রা. জানতে চাইতেন, বিনিময়ে তারা কী পাবেন? রাসূল সা. তাদেরকে দুনিয়ার কোনো কিছুর আশা দেখাননি। রাসূল সা. বলেছেন, বিনিময়ে তোমরা জান্নাত পাবে। ব্যাস, এতোটুকুই।
সাহাবায়ে কেরাম রা. আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের জানমাল দিয়ে ঝাপিয়ে পড়তেন। নিজেদের সবটুকু উজার করে দিতেন। ‘জান্নাত’ শব্দটার এতো শক্তি ছিলো।
আবার জাহান্নামের কথা শুনলে তাঁরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন। ‘জাহান্নাম’ শব্দটারও এতো শক্তি ছিলো। অথচ আজ এই শব্দ দু’টাতে কোনো শক্তি, ভয়, ব্যকুলতা কাজ করে না। জান্নাতের কথা শুনে কেউ আখিরাতের প্রতি আগ্রহী ও ব্যাকুল হয় না। জাহান্নামের কথা শুনে কেউ ভয়ে কেঁদে উঠে না। আজ এ দুইটা শব্দ বড় মামুলি হয়ে গেছে। ভাইয়ো, আমাদেরকে এই দুইটা শব্দের শক্তি অনুভব করতে হবে।
আখিরাতকে সামনে রেখে আমল করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দুনিয়া পেয়ে যাওয়া ও দুনিয়াকে উদ্দেশ্য করা এক জিনিস নয়। আখিরাতের জন্য করলে দুনিয়াও পাওয়া যায়। এতে কোনো সমস্যা নেই। সাহাবায়ে কেরাম রা. মক্কায় আখিরাতের জন্য নিজেদের জান-মাল কুরবান করেছেন। মদীনায় যাওয়ার কয়েক বছর পর আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সচ্ছলতা দান করেন।
সুতরাং আখিরাতকে সামনে রেখে জান-মাল কুরবানি করলে দুনিয়াও পাওয়া যায়। কিন্তু দুনিয়াকে উদ্দেশ্য করে দুনিয়া কামানো ঠিক নয়। এতে কখনও কখনও কোনটাই পাওয়া যায় না। দুনিয়াকে মাকসাদ বানালে জাহান্নাম মিলে, আর আখিরাতকে মাকসাদ বানালে জান্নাত মিলে। তাই আসুন আমরা আখিরাতকে সামনে রেখে ইবাদাত-বন্দেগী করি এবং নিজেদের জান-মাল ব্যায় করি। তাহলে আশা করা যায় আমরা জান্নাত পাবো।
আরও পড়ুন: একমাত্র ইসলামি শিক্ষাই পারে মানুষকে মানবিক গুণাবলিতে সুসজ্জিত করতে : আল্লামা মাসঊদ


