তাড়াইল ইজতেমার অপেক্ষায়

তাড়াইল ইজতেমার অপেক্ষায়

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

তাড়াইল ইজতেমার অপেক্ষায় আছি। দিন যেন শেষ হচ্ছে না। বিগত বছর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল বেলংকাতে ইসলাহী ইজতেমাতে শরীক হয়েছিলাম। এর মাঝে একবছর হয়ে গেল। এবছর ৪, ৫, ৬ মার্চ ইসলাহী ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু অপেক্ষার পালা যেন ফুরাচ্ছে না। মনটা ছটফট করছে। বিশেষ করে প্রিয় শায়েখের সাথে অনেক দিন মুলাকাত হয় না। হয়ত ইজতেমার উছিলায় তাঁর সাথে সাক্ষাত ঘটবে।

ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী ( রহ.) এর খলিফা, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাতবারাকাতুহুম। তিনি প্রতিবছর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলাধীন বেলংকাতে ইসলাহী ইজতেমার আয়োজন করেন। দেশ-বিদেশের হাজারো উলামায়ে কেরাম উক্ত ইজতেমাতে শরীক হন। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আলেমগণ জামাতবন্দী হয়ে সেখানে জমা হয়ে থাকেন। পুরো তিনদিন ব্যাপি সেখানে আলেম-উলামা এবং আমজনতার মিলনমেলা ঘটে।

তাড়াইল ইজতেমা আমার কাছে ব্যতিক্রম মনে হয়েছে। একদম নিঝুমপল্লী। মনোরম পরিবেশ। শহরের কোলাহল মুক্ত। সেখানকার পরিবেশ যেন মন ছুঁয়ে যায়। তাছাড়া উলামায়ে কেরাম এবং সাধারণ জনতার উপচেপড়া ভীড়। সকলে আল্লামা মাসঊদ সাহেবের সোহবাত লাভে ধন্য হয়। অনেক কাছ থেকে আল্লামা মাসঊদ সাহেবের নসীহত শোনা যায়।

বেলংকাতে এক বিশাল জামেয়া রয়েছে। তারই সম্মুখে বড় ময়দান। পুরো ময়দান প্যান্ডেল করা হয়ে থাকে। তাতে লাখো মানুষ জমা হতে পারে সে প্যান্ডেলে। ইজতেমার তিনদিনই সেখানে শবগুজারী হয়। ময়দানে নিজের সামানাপত্র সহ মুতাল্লেকীন-মুহিব্বীনদের উপস্হিতি লক্ষ্য করা যায়। সবকিছু উপেক্ষা করে সকল সাথীগণ আখেরী মুনাজাত পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করেন। পুরো এলাকা জুড়ে এক অভূতপুর্বদৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

সবচেয়ে মনমুগ্ধকর বিষয়, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের বয়ান। তিনি তো বড় মাপের একজন বাগ্মি। তাঁর কথাগুলো যেন জাদুরমত। তিনি প্রতিদিন সেখানে বয়ান করেন। তাঁর বক্তৃতাগুলো হৃদয়মন্দিরে আঘাত করে। ফেদায়ে মিল্লাতের খলিফা তিনি। মাদানী সিলসিলার জবরদস্তপীর। তাঁর ইসলাহী-আমলী বয়ানগুলো প্রাণ ছুঁয়ে যায়।

একজন নীরব সাধক আল্লামা মাসঊদ। প্রচারবিহীন মানুষ। নিজের কৃতিত্ব কোনদিন জাহির করেননি। সুলুকের লাইনের অতি উচ্চমার্গে তিনি সমাসীন। কিন্তু নীরবেই যেন কেটে গেল। মানুষকে জবরদন্তী করে দলে ভেড়ানো বা বায়াত করার মানুষ তিনি নন। যারা স্বতর্স্ফুত ভাবে তাঁর কাছে যায়, তাদেরকে সুপরামর্শে ধন্য করেন।

একজন বেমেছাল ব্যক্তিত্ব তিনি। পুরো দেশব্যাপি ইসলাহী প্রোগ্রাম করে যাচ্ছেন। যেখানে সারাদেশে ওয়াজের ময়দানে এক শ্রেণীর বিতর্কিত ওয়ায়েজ। ওয়াজের নামে মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। জাহেল-মূর্খদের দাপটে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। সেখানে লিল্লাহিয়্যাতের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন আল্লামা মাসঊদ সাহেব। মানুষকে সঠিক পথের দিশা দিচ্ছেন। কোন ধরণের দেনা-পাওনা নয়। কোন চুক্তি বা বিনিময় নয়। নিছক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আনাচে-কানাচে দ্বীনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌছাচ্ছেন।

ঠিক তাড়াইল ইজতেমা দ্বীনি এক মিশন। যেখানে সর্বস্তরের মানুষ জমা হচ্ছে। তাদেরকে সহী তরিকা বাতলে দিচ্ছেন। এভাবে সহজলভ্য ভাবে মানুষ গ্রহণ করছে। কোন বিতর্কিত আলোচনা নয়। কারো সমালোচনা নয়। আল্লাহ ও তাঁর পেয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরিকা মোতাবেক কীভাবে চলা যায়, তারই প্রচেষ্টা এবং পথ বাতলানো।

আর এই নিষ্ঠাবনতা তথা ইখলাসের কারণে তাঁর ইসলাহী ইজতেমাতে মানুষের ব্যাপক ফায়দা হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা ইসলাহী ইজতেমাকে কবুল করুন। আমিন।

  • লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *