পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আল্লাহ তাআলার কাছে কাকুতি মিনতির সাথে রোনাজারি করলে আল্লাহ তাকদীরকেও পালটে দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর খলীফা, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
শুক্তবার (১৮ মার্চ) ইকরা ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে আল্লামা মাসঊদ এসব কথা বলেন।
শবে বরাত নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, শবে বরাত একটি ইবাদতের রাত। আজকের রাত কোনো অনুষ্ঠানের রাত নয়। ইবাদাত আর অনুষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য হলো ইবাদাত করতে হয় আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায়। আল্লাহর পন্থার বাইরে গেলে সেটা আর ইবাদাত থাকে না। সেটা অনুষ্ঠান হয়ে যায়। তাই আমরা আজকের রাতটা নিজদের মন মতো পালন করবো না। একমাত্র আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো পদ্ধতিতে পালন করবো।
বান্দার রোনাজারিতে আল্লাহ তাআলা তাকদীরকেও পাল্টে দিতে পারেন উল্লেখ করে বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান বলেন, শবে বরাতে রিজিক ও তাকদীরের ফায়সালা করা হয়। আগামী এক বছর কী হবে না হবে, কী ঘটবে না ঘটবে তা লেখা হয়। তাই আজকের রাতে আল্লাহ তাআলার কাছে রোনাজারি করবো। আল্লাহ তাআলা খুশি হয়ে আমাদের তাকদীরকে পরিবর্তন করে দিতেও পারেন। কারণ আল্লাহ তাআলার সেই ক্ষমতা আছে।
তাকদীরের প্রকারভেদ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, তাকদীর দুই প্রকার।
এক. ‘মুবহাম’ অর্থাৎ এমন কিছু বিষয় যা কখনো পরিবর্তন হবে না। যেমন মানুষের জন্ম-মৃত্যু। মানুষের জন্ম-মৃত্যুর তারিখ কখনো পরিবর্তন হবে না।
দুই. ‘মুআল্লাক’ অর্থাৎ এমন কিছু বিষয় আছে যা শর্তের সাথে সম্পৃক্ত। আল্লাহ তাআলা চাইলে সেগুলো পরিবর্তন করতে পারেন। যেমন, বান্দা যদি নামাজ পড়ে তাহলে তার ভাগ্যে এমনটা হবে, আর নামাজ না পড়লে তার ভাগ্যে অন্য কিছু হবে।
সুতরাং যেহেতু ‘মুআল্লাক’ তাকদীর পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং আজকের রাতে যা লেখা হয় আগামী এক বছর সেভাবেই চলে, তাই আমরা আজকের রাতে বেশি বেশি নফল ইবাদাত ও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবো। যাতে আল্লাহ তাআলা আমাদের ভাগ্যে আগামী এক বছরের জন্য ভালো কিছু নির্ধারণ করেন।
- আরও পড়ুন : শবে বরাত এক মহিমান্বিত রাত


