শ্রীলঙ্কায় এক কেজি চালের দাম ৫০০ টাকা

শ্রীলঙ্কায় এক কেজি চালের দাম ৫০০ টাকা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ১৯৪৮ সাল অর্থাৎ স্বাধীনতার পর থেকে এমন চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়নি দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কাকে। দেশজুড়ে হাহাকার চলছে। অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে দেশটির মানুষ। জিনিসপত্রের দামও আকাশ ছুঁইছুঁই। দেশের রিজার্ভে অর্থ নেই বললেই চলে। সব মিলিয়ে সরকার ও সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। এ অবস্থায় দেশটি থেকে পালাতে শুরু করেছে লোকজন। খবর এনডিটিভি।

বেশ কিছুদিন ধরেই এমন করুণ অবস্থা চলছে শ্রীলঙ্কায়। মহামারি করোনার কারণে যে আর্থিক ধাক্কা লেগেছিল, তা সামলে উঠতে পারেনি অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। ফলে বিশ্বজুড়ে যখন করোনা থেকে উঠে আসার চেষ্টা চলছে, তখন চরম আর্থিক সংকটে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

দেশজুড়ে সবকিছুতে কেবল হাহাকার। টান পড়ে গেছে জ্বালানি তেল, খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সামগ্রীর। পাওয়া যাচ্ছে না রান্নার গ্যাস ও কেরোসিন। বিদ্যুতের অভাবে শুরু হয়ে গেছে ব্ল্যাক আউট। পরিস্থিতি বিবেচনায় পেট্রল পাম্পে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, দেশটিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো প্রয়োজনীয় কাগজের সংকট দেখা দিয়েছে। কাগজের অভাবে লাখ লাখ স্কুলের পরীক্ষা পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় যোগানের ঘাটতির কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। এই মুহূর্তে দেশটিতে এক কেজি চালের দাম ৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। ৪০০ গ্রাম দুধের প্যাকেটের দাম ৭৯০ টাকা, এক কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকায়, এক কাপ চায়ের দাম ১০০ টাকা!

জানা গেছে, বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেই দেশটিতে এই চরম আর্থিক সঙ্কট দেখা গেছে। ডলারের তুলনায় শ্রীলঙ্কার টাকার দামও তলানিতে। করোনার দীর্ঘ মেয়াদি আর্থিক সংকটের পাশাপাশি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবও পড়ছে কিছু কিছু।

দেশের এই আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে গত বুধবার সর্বদলীয় বৈঠক করেন শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপাকসে। বৈঠকের পর জানানো হয়, ইতোমধ্যে আইএমএফসহ বিভিন্ন সংস্থা ও রাষ্ট্রের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি। কিন্তু সেসব জায়গা থেকেও যথাযথ আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় দ্বীপরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন নাগরিকরা। ভারতের তামিলনাড়ুতে এরই মধ্যে বেশ কিছু নারী-পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সামনে এর পরিমাণ আরো অনেক বাড়তে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শরণার্থীরা জানিয়েছেন, দ্বীপরাষ্ট্রের আরও নাগরিক ভারতে আশ্রয় নিতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *