পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া হাজারা অধ্যুষিত এলাকায় এক স্কুলে জোড়া বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ১১ জন। আজ মঙ্গলবার কাবুলের আব্দুর রহিম শহীদ স্কুলে বোমা বিস্ফোরণে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
বালকদের স্কুলটির প্রভাতি শাখার ছুটি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বের হতে শুরু করলে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়।
স্কুলের এক শিক্ষার্থী আলী জান বলে, ‘আমরা স্কুল থেকে বের হচ্ছিলাম। পেছনের গেট দিয়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে।’ ঘটনায় আলী জান নিজেও আহত হয়েছে।
বিস্ফোরণে হতাহতদের হাসপাতালে নিতে উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। বিস্ফোরণস্থলে রক্তাক্ত দেহ, বোমায় পোড়া বই-খাতা আর ব্যাগ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান বলেন, বিস্ফোরণে কমপক্ষে ছয়জন মারা গেছে এবং ১১ জন আহত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘এটা একেবারেই প্রাথমিক চিত্র। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং আরো বিস্তারিত জানার জন্য অপেক্ষা করছি। ’ দুটি ঘটনাই স্থানীয় উপকরণে তৈরি বিস্ফোরকের মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
মুখপাত্র জাদরান আরো জানান, একই এলাকায় একটি ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রে তৃতীয় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এটি কোনো বিস্ফোরকের মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে কি না তা তিনি নিশ্চিত করেননি। তালেবান বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে। সেখানে কোনো সাংবাদিককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
শিয়া হাজারা অধ্যুষিত এলাকায় আগেও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে এবং এসব হামলা চালায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠী। একসময় তালেবানও শিয়া হাজারাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আফগানিস্তানের তিন কোটি ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে শিয়া হাজারাদের সংখ্যা ১০ থেকে ২০ শতাংশ।
গত বছর আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর দেশটিতে বোমা হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। তবে আইএসের হামলা অব্যাহত থাকে। তালেবানের দাবি, তারা আইএসকে দমন করেছে। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবানের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি। তালেবান যোদ্ধারা নিয়মিত আইএসবিরোধী অভিযান চালায়, বিশেষ করে জঙ্গিগোষ্ঠীটির আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে।
সূত্র : এএফপি


