ছয় মাস শুকিয়ে থাকে ব্রহ্মপুত্র, হেঁটে চলতে হয় ১০ কিমি

ছয় মাস শুকিয়ে থাকে ব্রহ্মপুত্র, হেঁটে চলতে হয় ১০ কিমি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদে পানি না থাকায় ধু-ধু বালু চর এখন মরুভূমির আকার নিয়েছে। এক সময়ের উত্তাল নদী এখন বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ই শুকিয়ে থাকে। চরাঞ্চলের হাজারো মানুষসহ নদীপথে যাতায়াতকারীদের হেঁটে বা ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বালুচর পাড়ি দিতে হচ্ছে।

নদীর এমন অবস্থা যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। আন্তঃজেলা নৌপথ ও গুরুত্বপূর্ণ বালাশী-বাহাদুরাবাদ লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় সারা বছর পানি থাকা ব্রহ্মপুত্র নদ এখন প্রায় অর্ধেক সময় শুকিয়ে থাকে। ফলে চরাঞ্চলের মানুষকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ফুলছড়ি চরের বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, ‘বছরের অর্ধেক সময় নদী শুকিয়ে যাওয়ায় হেঁটে যাওয়া আসা করতে হয়। মাঝেমধ্যে নৌকাও আটকা পড়ে গভীর নদীর বালুচরে।’

গাবগাছি চরের ভোলা মিয়া বলেন, ‘মূল নদীটি খনন করে সচল করলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমবে।’

ব্রহ্মপুত্র নদের চরের উৎপাদিত কৃষিপণ্য জেলার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু নদীপথে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে, চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন ৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে নদের বালু চর পাড়ি দিতে হয়। রোগী ও শিশুদের নিয়ে এই দুর্ভোগ আরও তীব্র।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক জানান, নদীর ভাঙন, উজানের পানি প্রবাহ কমে যাওয়া এবং বর্ষার পলিমাটি জমে যাওয়ার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ১৬৫টি চর রয়েছে। এসব চরের মানুষ ছাড়াও বালাশী-বাহাদুরাবাদঘাট দিয়ে কমপক্ষে ১০ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। তবে নদীর বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলেছে।

স্থানীয়রা নদী খননের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, নদী পুনরুদ্ধার এবং নৌপথ সচল করলে দেশের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ সম্ভব হবে।

Related Articles