পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসের একটি সুড়ঙ্গ থেকে হামাসের সামরিক শাখার ডি-ফ্যাক্টো কমান্ডার মুহাম্মদ সিনওয়ারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৮ মে) সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-হাদাথের প্রতিবেদেনে বলা হয়, গত সপ্তাহে মোহাম্মদ সিনওয়ারকে লক্ষ্য করে খান ইউনিসের ইউরোপীয় হাসপাতালে একটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল ইসরাইল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সুড়ঙ্গে সিনওয়ারের ১০ জন সহযোগীর মরদেহও পাওয়া গেছে। ইসরাইলের ওই হামলায় হামাসের সামরিক শাখার রাফাহ ব্রিগেডের কমান্ডার মোহাম্মদ শাবানাও নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মুহাম্মদ সিনওয়ার বা শাবানার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত ইসরাইলি বাহিনী এখনো নিশ্চিত করেনি।
এর আগে ইসরাইলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এ হামলার বিষয়ে জ্ঞাত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছিল, মঙ্গলবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় খান ইউনিসের ইউরোপীয় হাসপাতালে হামলাটি চালানো হয়।
গত অক্টোবরে ইসরাইলি বাহিনী ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যার পর থেকে তার ভাই মুহাম্মদ সিনওয়ার গাজায় হামাসের অঘোষিত প্রধান নেতা হয়ে উঠেছিলেন।
গত জুলাইয়ে হামাসের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মুহাম্মদ দেইফের মৃত্যুর পর মুহাম্মদ সিনওয়ার সামরিক শাখার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে, মুহাম্মদ সিনওয়ারের বড় ভাই আইডিএফ সৈন্যদের হাতে নিহত হওয়ার পর তিনি গাজা উপত্যকার ডি-ফ্যাক্টো নেতা হন।
গাজায় যেকোনো যুদ্ধবিরতির জন্য হামাসের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ সিনওয়ারকে বাধা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা।
এদিকে গাজায় নতুন করে যুদ্ধবিরতির জন্য হামাস ও ইসরাইল আলোচনা শুরু করেছে। শনিবার (১৭ মে) দোহায় কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা শুরু হয় বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং ইসরাইল ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে নয়জন জিম্মিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে হামাস।
প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে বলা হয়, গাজায় প্রতিদিন ৪০০ ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে এবং গাজা থেকে রোগীদের সরিয়ে নেয়ার অনুমতি দেবে ইসরাইল। এছাড়া কতজন জিম্মি জীবিত আছে এবং সব জিম্মিদের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে ইসরাইল সরকার।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


