অকারণেই বেড়েছে চালের দাম

অকারণেই বেড়েছে চালের দাম

পাথেয় টোয়েন্টিপোর ডটকম : আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির পর, বর্ধিত দামেই চলছে চাল কেনাবেচা। ৩০ ডিসেম্বর রোববার বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর পরই বেড়ে যায় চালের দাম। চালের মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারণ খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে বলেছে, চালের উৎপাদন বেড়েছে। বিশ্ববাজারের দরও আগের চেয়ে কম। ফলে স্থানীয় বাজারে চালের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

বিটিসি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, আমদানি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও অন্যান্য বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজারে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এদিকে ঢাকার পাইকারি বাজারে নির্বাচনের আগে ও পরে চালের দাম কেজিপ্রতি তিন-চার টাকা বেড়ে যাওয়ার পর এখন তা এক টাকা কমেছে। যদিও এর কোনো সুফল পাননি ক্রেতারা। কারণ, খুচরা বাজারে দাম কমেনি। বিক্রেতারা বলছেন, মিলমালিকদের সঙ্গে খাদ্য ও বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পর মূলত চালের দাম বাড়ার প্রবণতা বন্ধ হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের চালের আড়তের মালিক লোকমান হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে মিলমালিকেরা চালের দাম বাড়াচ্ছিলেন। সেটা বন্ধ হয়েছে।

ভোটের পর ১০ জানুয়ারি নতুন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মিলমালিক ও ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে ব্যবসায়ীরা দাম কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর বড় মিলগুলো কেজিতে এক টাকা কমায়। দেশের চালের বাজার এখন বড় দখলে রাখছে তীর, রশিদ, মঞ্জুর, বিশ্বাস, এরফান, সাগর, মোজাম্মেলসহ কয়েকটি ব্র্যান্ড।

খুচরা বাজারে দাম আগের মতোই। যতটুকু বেড়েছিল, তা আর কমেনি। খুচরা বাজারে এখন প্রতি বস্তা ভালো মানের সরু মিনিকেট চাল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে কেজিপ্রতি দর পড়ে ৫৪-৫৫ টাকা। অবশ্য বস্তা না নিয়ে কেজি দরে কিনতে গেলে বিক্রেতারা ৫৬-৫৮ টাকা চাইছেন। অন্যদিকে মাঝারি মানের বিভিন্ন চাল ৪৪-৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ভালো মানের মোটা চাল খুচরা বাজারে ৪০ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চালের উৎপাদন বেড়েছে ৭ শতাংশ বা ২৪ লাখ ৭৪ হাজার টন। ফলে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৯ হাজার টন। ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪২ লাখ টনের বেশি চাল আমদানি হয়েছে। আগের বছর হয়েছিল মাত্র ১ লাখ ৮৮ হাজার টন। দেশে উৎপাদন বাড়ায় সরকার চাল আমদানির ওপর কর বাড়িয়ে দিয়েছে, যা এখন মোট ২৮ শতাংশ। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে চাল আমদানি কমে ১ লাখ ৮০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

জানতে চাইলে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটকেন্দ্রিক একজন আমদানিকারক ও আড়তমালিক বলেন, কয়েকটি বড় মিলের মালিকেরা পরামর্শ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। ধান মজুত রাখতে ব্যাংকঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করতে হয় বলে তাঁরা মৌসুমের শেষ দিকে দাম বাড়াতে চাইছিলেন। এটাই সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যসচিব গোলাম রহমান বলেন, চালের দাম বাড়ানোটা কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়। ব্যবসায়ীরা নির্বাচনের সময় পরিবহন বন্ধ থাকা ও সরকারের ক্রয়কে কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। এগুলো খোঁড়া যুক্তি। আসলে বাজারে যারা বড় সরবরাহকারী, তারা দাম বাড়িয়ে দিলে অন্যরা সেটা অনুসরণ করে। অকারণে কারা দাম বাড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *