অগ্নিদগ্ধদের দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী

অগ্নিদগ্ধদের দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় রিপোর্ট : চকবাজারে আগুনে দগ্ধ ও আহতদের খোঁজ-খবর নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ঢামেকে পৌঁছান। তিনি হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ও আহতদের খোঁজখবর নিতে এখানে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর স‌ঙ্গে রয়েছেন-স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মা‌লেক স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসান, ঢাকা দ‌ক্ষি‌ণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, এমপি হাজী মো. সে‌লিম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. সামন্তলাল সেন, স্বাস্থ্য অ‌ধিদফতরের মহাপরিচালক (ডি‌জি) ডা. আবুল কালাম প্রমূখ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দগ্ধ ও আহতদের খোঁজ-খবর নিতে দেখা যায়। রোগী ও তার আত্মীয়-স্বজ‌নের স‌ঙ্গে কথা বল‌ছেন তি‌নি। এছাড়া ডাক্তা‌রদের স‌ঙ্গেও রোগী‌দের অবস্থা নি‌য়ে কথা বল‌ছেন।

বুধবার রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সে দিন সারা রাত জেগে থেকে প্রতি মুহূর্তের খোঁজ-খবর নেন সরকার প্রধান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন তিনি। এছাড়া পরবর্তীতে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০১০ সালে নিমতলীতে অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সকালে পৃথক শোকবার্তায় তারা এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আহতদের আশু সুস্থতাও কামনা করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৃহস্পতিবার সকালে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রেস সচিব বলেন, “আগুনে আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্তমানে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদও এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের একটি ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তা পাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ রাত ৩টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ২০০ কর্মী। তবে ছোট গলি ও পানির স্বল্পতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *