অদম্য ইচ্ছা থেকেই মাওলানা হলেন ডা. এস জেড খান

অদম্য ইচ্ছা থেকেই মাওলানা হলেন ডা. এস জেড খান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পড়ালেখার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা না। ইচ্ছা শক্তিই আসল ব্যাপার। এমনটাই প্রমাণ করলেন ভারতের উত্তর চব্বিশপরগনার ডা. এস জেড খান। ৬৫ বছর বয়সে উত্তর চব্বিশপরগনার জামপুর মাদরাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাগড়ি প্রধানের মাধ্যমে মাওলানা হিসেবে তাকে সম্মান জানানো হয়েছে।

মাওলান এস জেড খান পেশায় একজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। তিনি স্থানীয় ন্যশনাল ইন্সটিটিউট অব হোমিওপ্যাথিতে অধ্যাপনা ও চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন। এখনো তিনি অতিথি অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত আছেন।

কলকাতার ওয়াটগঞ্জ থানার পাশেই তার বসবাস। দৈনন্দিন কাজের পর তিনি নিয়মিত পড়াশুনা করেন। কাজকর্ম আর নিয়মিত পড়াশুনার জন্য তিনি রুটিং মেনে দিনযাপন করতেন। খুব ভোরে উঠে নামাজ পড়া, অধ্যায়ন করা, আর অন্যান্য কাজের ফাকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা সেবাও তিনি দিয়ে যেতেন নিয়মিত।

দ্বীনি শিক্ষার উপর পান্ডিত্য অর্জনের অদম্য ইচ্ছা ও ধর্মীয় শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ থেকে তিনি বছর খানেক আগে মাদরাসায় ভর্তি হোন। চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি সপ্তাহে দু’দিন ক্লাস করা আর পাঠ্য বই অধ্যায়নে সময় কাটিয়েছেন তিনি। এ বছর তিনি প্রতাষ্ঠিন পাড়ালেখা শেষ করেন। জামপুর মাদরাসার বুখারি খতম উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যদের সাথে তাকেও ‘মাওলানা’ সম্মানসূচক পাগড়ি পড়িয়ে দেন মাদরাসার উস্তাদ হযরত মাওলানা মুফতি আরিফ কাসেমী।

পাগড়ি পরিধানের পর ডা এস জেড বলেন, ‘এটা আমার জীবনের বড় পাওনা, এতদিন দুনিয়ার কর্মের জন্য ডিগ্রি নিয়েছি, মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি, মানুষের কাছে ভালবাসাও পেয়েছি। কিন্তু মাওলানা ডিগ্রি আমাকে অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে। এতে আমি আপ্লুত, আনন্দিত। এতদিন দুনিয়ার জন্য কর্মে লিপ্ত ছিলাম, মুলত দুনিয়ার শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষার উপর জোর দিতেই আমি মাদরাসায় ভর্তি হয়েছি।’

তিনি আরো বলেন ‘দুনিয়ার শিক্ষার পাশাপাশি নিজের জন্য দ্বীনি শিক্ষাটাও জরুরি। আমি এই শিক্ষার কিছুটা শিখতে পেরেছি, উলামায়ে কেমাররা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। এই শিক্ষা দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুনে বলেও জানা তিনি।

গ্রন্থনা : জাওয়াদুল কারিম
সূত্র : পুবের করম, কালকাতা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *