পাথেয় রিপোর্ট : চট্টগ্রামের বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিআ দারুল মা’আরিফের সহকারী পরিচালক ও সিনিয়র মুহাদ্দিস, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ও আল্লামা সুলতান যওক নদভীর জামাতা, আরবী সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র মুফতি জসীম উদ্দীন নদভী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
দারুল মা’আরিফ সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মুফতি জসীম উদ্দীন নদভী সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে গতকাল রাত ৩টায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
প্রসঙ্গত, ২ কন্যা ও ১ ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন মুফতি জসীম উদ্দীন নদভী। তাঁর বড় মেয়ে জামাতাসহ সৌদি আরবে থাকেন। তিনি জাতীয় ওলামা-মশায়েখ ও আইম্মা পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি ছিলেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে মহেশখালী -কুতুবদিয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ইসলামী পত্রিকা পরিষদের জয়েন্ট সেক্রেটারী ও মাসিক মদীনার পয়গাম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কবির বরেণ্য শিক্ষাবিদ আরবী সাহিত্যিক ড. জসীম উদ্দীন নদভীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর আমি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।
শীলন বাংলাদেশ সভাপতি মাওলানা মাসউদুল কাদির গভীর শোক জানিয়ে বলেছেন, ড. জসীম উদ্দীন নদভী চলে গেলেন। হৃদয়ের কোণে একটা ব্যথা অনুভব করছি। নদভী সাহেব তার বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন। বাসাটা দেখিয়ে বলেছিলেন, যখন মনে চায়, চট্টগ্রাম চলে আসবেন। আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম তাঁর কথা। দারুল মাআরিফে তার আতিথেয়তা, আন্তরিকতা, হৃদ্যতা কখনোই ভুলতে পারবো না। প্রতিটি নতুন উদ্যমি কাজের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। অগ্রণী ছিলেন। বর্তমান আলেমসমাজকে নিয়েও তিনি অস্থিরতা অনুভব করতেন। তার সঙ্গে কথা বলে সেটা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি।
মাসউদুল কাদির বলেন, ড. জসীম উদ্দীন নদভী ডক্টরেটের জন্য যেসব নথিপত্র দেখিয়েছিলেন, চল্লিশোর্ধ্ব তখনকার বয়সে একজন মানুষের পড়াশোনার চেষ্টা দেখে অভিভূত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। পরে খুশি হয়েছি তিনি ডক্টরেট লাভ করেছেন। যার কাছে ডক্টরেট করেছেন তিনিও আমার শিক্ষক।
নদভী সাহেবের সঙ্গে আমার কিছু কাজ ছিল। হলো না। আমি বার বার ঢাকা থেকে ফোন করেছি। এত সমিহ-সম্মান করে কথা বলতেন মনে হতো বয়সে জ্ঞানে আমি অনেক বড় আর তিনি আমার জুনিয়র। তাঁর রেসপেক্ট ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। আমি আজ তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।


