আচমকা সফরে হাটহাজারী মাদ্রাসায় মামুনুল হক

আচমকা সফরে হাটহাজারী মাদ্রাসায় মামুনুল হক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আচমকা সফরে হাটহাজারী মাদ্রাসায় গেলেন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতামূলক বক্তব্য দিয়ে দেশের বিতর্কিত আলেম খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।

সফরকালে তিনি হেফাজতের প্রয়াত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারতের পাশাপাশি সংগঠনের নতুন আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মাদ্রাসার শুরা কমিটির সদস্য মাওলানা শেখ আহমদ ও মাওলানা ইয়াহিয়ার সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন।

বুধবার (০৯ ডিসেম্বর) বিকালে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসায় যান বলে নিশ্চিত করেছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী।

সাক্ষাতে তাদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে- তা জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি ঢাকা থেকে হাটহাজারী যান।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী বলেন, মাওলানা মামুনুল হক বিকালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় এসেছিলেন। তিনি আল্লামা শাহ আহমদ শফি হুজুরের কবর জিয়ারত এবং হেফাজতের বর্তমান আমিরসহ অন্য হুজুরদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। এরপর বিকাল ৫টার দিকে তিনি নিজ গাড়িতে করে ঢাকায় ফিরে যান।

উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শানে রিসালাত কনফারেন্সে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন।

এ ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। গত ২৭ নভেম্বর হাটহাজারীতে মাহফিলে যোগ দেয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন মামুনুল হকের চট্টগ্রাম আগমন ঠেকাতে প্রতিরোধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। রাজপথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের তীব্র বাধার কারণে ও প্রশাসনের চাপের মুখে মামুনুল হক সে দিন মাহফিলের মঞ্চে উপস্থিত হননি।

এদিকে গত ৭ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে জুনায়েদ বাবুনগরী, মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দুটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলা দুটি তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *