আজো দারুল উলূম আমার হৃদয়ে
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : ভুলতে পারি না দারুল উলুম দেওবন্দের স্মৃতিগুলো। চোখের মনিকোঠায় ভাসে সব সময়। দারুল উলুমে অবস্থানকালীন প্রতিটা সময় যেন চোখের সামনে। দেওবন্দ মাদ্রাসার সব স্মৃতিগুলো বারবার পীড়া দেয় আমাকে।
এই ছোট্ট জীবনে বহু প্রতিষ্ঠানে ঘুরেছি, কিন্তু দারুল উলুম দেওবন্দের মত এরকম হৃদয় কেড়ে নেওয়া নেওয়া জামেয়া আর কোথাও মেলেনি।
শুধু আমি নই, যারাই দেওবন্দে পড়েছে, সকল শিক্ষার্থীর একই অভিব্যক্তি। দারুল উলুম একটি বে- মেছাল প্রতিষ্টান। এর সাথে আর কোন জামেয়ার তুলনা হয় না।
দারুল উলুম একটি ইসলামী বিদ্যাপীঠ। এর প্রতিটি ভবন, প্রতিটি দরস গাহ, ছাত্রাবাস, সব কিছু যেন এক ব্যতিক্রমধর্মী।
আজো দারুল উলুমের দারুল হাদীসের দরসগাহ কে আমার কাছে বিশ্বসেরা মনে হয়। যে মসনদে বসে একজন মুহাদ্দিস দরস দেন, সেটা এক বিরল প্রকৃতির মসনদ। মুহাদ্দিসের সামনে যেন তিনটি বিশাল লম্বা আকৃতির হল। সরাসরি সামনে, ডানে, বামে। আর তিন হলের মধ্যমণি হিসেবে দরস দেন একজন উস্তাদ।
সবচেয়ে বড় কথা, এই দারুল হাদীসের মসনদে এমন এমন মনীষী দরস প্রদান করেছেন, যাদের খ্যাতি ছিল বিশ্বময়। তারা সাধারণ কোন ব্যক্তি ছিলেন না। জগৎ সেরা আলেম গন এই মসনদে বসে দরস দিয়েছেন।
এই দারুল হাদীসের মসনদে দরস দিয়েছেন, শায়খুল হিন্দের মত মানুষ। এখানে দরস দিয়েছেন, আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী, এখানে দরস দিয়েছেন, কুতুবুল আলম হুসাইন আহমাদ মাদানী। এরকম জগৎ বিখ্যাত মানুষেরা এই দারুল হাদীসে বসে দরস দিয়েছেন। একারণে এই মসনদের এক বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। যেটা আর এই দেশের আর কোথাও নেই।
দারুল উলুমের ছাত্রাবাস গুলো যেন এক ভিন্ন প্রকৃতির। এত বড় লম্বা ভবন মনে হয়, দুনিয়ার আর কোথাও নেই। সবচেয়ে বড় কথা, এ ভবনের সাথে জুড়ে আছে যে কত স্মৃতি। প্রায় শত বৎসরের ভবন। এখনও তার মজবুত গাঁথুনি। তার সৌন্দর্য বিরল।
দারুল উলুম যেমন আস্হার প্রতিক আমাদের। পুরো বিশ্ব মানবের। ঠিক দারুল উলুমের বড় বড় পুরানো ইমারা গুলো জামেয়ার মজবুত ভীত।
কত যে মহা মানব তৈরী হয়েছে এ সব ভবন থেকে। যেন কালের সাক্ষি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কত ঘটনা,কত যাতনা, কত দুঃখ- বেদনার সাথে যেন তার সাথে মিশে আছে।
সেই লোমহর্ষক দিন গুলোর কথা তো এই দারুল উলুমের মনে আছে নিশ্চয়ই। সে সব স্মৃতি গুলো তো দারুল উলুম তাঁর বক্ষে ধারণ করে আছে অবশ্যই। যখন নির্যাতিত ছিল এদেশের মানুষ। অবর্ননীয় জুলুমের শিকার ছিল তারা। সেই কঠিন মুহুর্তে এই দারুল উলুম থেকে আজাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া হয়ে ছিল। মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল এই জামেয়া।
সব স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। দারুল উলুমের সকল ছাত্রাবাস। সেই নওদারা। সেই মাকবারায়ে কাসেমী। দারুল উলুমের মসজিদ গুলো, মসজিদে কদীম, মসজিদে রশীদ, ছাত্তা মসজিদ, মাদানী মসজিদ।
দারুল উলুমের নজর কাড়া ফুল বাগান, কি সুন্দর সাজানো গোছানো।
দারুল উলুমের মাতবাখ, এছাড়া বিভিন্ন শাখা। বিভিন্ন অফিস, তালীমাত, দারুল ইহতেমাম, সব কিছুই যেন মনটা ছুঁয়ে যায়।
দারুল উলুমের খেলার মাঠ গুলো। বিকেল বেলা যেখানে ছাত্ররা হৈ হুল্লোড়ে কাটিয়ে দেয়।
মোটকথা, প্রতিটা জিনিসেই মন কেড়ে নিয়ে যায়। কোন স্মৃতি কখনো ভুলবার নয়। কোনই ছাত্র দারুল উলুমকে কোনদিন ভুলতে পারবেনা। তার হৃদয়ে গেঁথে থাকবে চিরদিন।
লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক


