আবাসন খাতে সেকেন্ডারি বাজার চালুর প্রস্তাব রিহ্যাবের

আবাসন খাতে সেকেন্ডারি বাজার চালুর প্রস্তাব রিহ্যাবের

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ● নিবন্ধন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি ও গেইন ট্যাক্সে বিশেষ ছাড় দিয়ে আবাসন খাতের জন্য সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থা প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। প্রথম বিক্রয়ের পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার বিক্রির সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে এ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। এক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৫ শতাংশের কম করারোপের দাবি জানিয়েছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা। মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ক্ষুদ্র-মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প, নির্মাণ এবং ওষুধ শিল্পসহ প্রায় ৪০টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে এনবিআরের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় রিহ্যাবের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। আলোচনায় আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার দাবির পাশাপাশি আয়কর, মূসক ও শুল্কে ছাড় দেয়ার দাবি জানানো হয়। এছাড়া আগামী অর্থবছরে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি রি-ফিন্যান্সিং পদ্ধতি চালু ও ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন, আবাসন শিল্প রক্ষার্থে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যমান মূসক হ্রাসসহ বেশকিছু প্রস্তাব দেয়া হয়।

আলোচনায় রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, আবাসন খাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এ ধরনের সুযোগ তৈরি হয়নি। মূলত নিবন্ধন ফি ও আয়করসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে কাজ করতে পারেননি। প্রথম বিক্রয়ের পর ফ্ল্যাট পুনরায় হাতবদলে সব ধরনের কর ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা হলে এ শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

আবাসন খাতের মন্দা কাটাতে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, আমরা কালো টাকা সাদা করার কথা বলছি না। তবে আবাসন খাতের উন্নয়নে বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ এখানে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। ফ্ল্যাট, প্লট, বাণিজ্যিক ভবন ও বিপণিবিতানে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দিলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। এসব বিনিয়োগকারী ভবিষ্যতে ট্যাক্সনেটের আওতায় আসবে। এর ফলে সেকেন্ড হোমের নামে অর্থ পাচার বন্ধ হবে। নিবন্ধন-সংশ্লিষ্ট কর ও ফি সর্বমোট ৭ শতাংশ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ৪ শতাংশ গেইন ট্যাক্স, ৩ শতাংশ স্ট্যাম্প ফি, ২ শতাংশ নিবন্ধন ফি, ২ শতাংশ স্থানীয় সরকার কর, ৩ শতাংশ ভ্যাটসহ মোট ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ কর দিতে হয়, যা বিশ্বের কোনো দেশে নেই। পৃথিবীর কোনো দেশে এত বেশি নিবন্ধন ব্যয় নেই। সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশে নিবন্ধন ব্যয় ৪ থেকে ৬ শতাংশ।

আলোচনায় বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির মহাসচিব আবু বকর আবাসন খাতে ইটের ব্যবহারের ওপর ট্যারিফ মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক নির্ধারণের পরিবর্তে ১০ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজনের পর মূসক নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। এছাড়া অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে লোহা ও স্টিল রি-রোলিংয়ের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানায় বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ দে বলেন, নিম্ন শ্রেণির সিগারেটের ওপর কম করারোপ ও বিড়ির ওপর বেশি আরোপের কারণে বিড়ি শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। দেশে উৎপাদন অব্যাহত রাখা শতাধিক কারখানা বাঁচিয়ে রাখতে সিগারেটে বিড়ির ন্যায় সম্পূরক শুল্ক আরোপ ও বিড়িতে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হোক। এছাড়া চোরাচালানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে তামাকজাত পণ্যের প্রবেশ বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।

আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, একটি ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নে এনবিআর কাজ করছে। তবে উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সরকারকে অবশ্যই রাজস্ব আহরণ করতে হবে। রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে আহরণে বিশ্বাসী এনবিআর। এজন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কর, ভ্যাট ও শুল্ক আদায় করা হবে। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবগুলো এনবিআর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *