মাওলানা আমিনুল ইসলাম : দেশের বিভিন্ন স্থানে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের ইসলাহী ইজতেমা জাতিকে সঠিক পথের সন্ধান দিবে। জাতির এই ক্রান্তি-কালে যখন মানুষ দিশেহারা, মানুষের নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন চরম ভাবে। সারাদেশের মানুষের মাঝে অস্থিরতা, মনুষ্যত্ব বোধ বলতে কিছু নেই। আখলাক-চরিত্র যখন সর্ব স্তরের মানুষের চরম ঘাটতি। ঠিক সেই সঙ্গিন মুহুর্তে এদেশের আলেমদের ছারেতাঁজ, দারুল উলূম দেওবন্দের সুর্য সন্তান, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব ইসলাহী ইজতেমার আহ্বান করে যাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সফলভাবে ইসলাহী ইজতেমার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইসলাহ মানে সংশোধন। ইসলাহী ইজতেমা মানে সংশোধন হওয়ার ইজতেমা। নিজের ভুল ত্রুটি সংশোধন করা। আমাদের আখলাক-চরিত্র এর যে চরম অবনতি, হক্কানী-রব্বানী আলেমদের সোহবতে বসে সে সব ভুল-ত্রুটিগুলো আলোচনা করে নিজেকে সংশোধনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া। মানুষ মাত্র গোনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে। আল্লাহর ইবাদতে গাফলতি করে। কিন্তু এসব ইসলাহী ইজতেমায় আগত আলেম-উলামার সান্নিধ্যে বসে গোনাহ থেকে মুক্ত থাকার জন্য দৃঢ়-প্রতিজ্ঞা করা। এবং মহান আল্লাহর কাছে গোনাহ থেকে তাওবা করা।
ইসলাহী ইজতেমার আরো কাজ হলো, গাফেল-অলস মানুষকে ইবাদতের প্রতি উৎসাহিত করা হয়। অনেকেই নিজে নিজে আল্লাহর ইবাদত এর প্রতি গাফেল হয়ে পড়েন, কিন্তু যখন আলেম-উলামাদের সাথে মিলিত হন, তখন নিজের গাফলতি, ভুল-ত্রুটি ধরা পড়ে। এসব ইসলাহী ইজতেমায় মানুষকে ইবাদতের প্রতি জযবা পয়দা করে দেয়।
উত্তম চরিত্র গঠনে সহায়ক ইসলাহী ইজতেমা। খাঁটি আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবতে, কুরআন হাদীসে বর্ণিত জান্নাত এর শান্তিময় স্থানের আলোচনা, জাহান্নামের ভয়াবহতার বর্ণনায়, পুর্ববর্তী মানুষের জীবন কাহিনী শোনার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হয়। আর আল্লাহর ভয় মানুষকে উত্তম আখলাকে পরিণত করে।
মোটকথা: ইসলাহী ইজতেমার মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দেওয়া যায়। মানুষের নৈতিক অবক্ষয় রোধ করে একজন সাচ্চা মুমিন-মুত্তাকী মানুষে পরিগণিত হতে সাহায্য করে এসকল ইসলাহী ইজতেমা।
আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব একজন বিদগ্ধ আলেম। আবার তিনি সুলুকের লাইনে একজন কামেল শখছিয়্যাত। কুতুবুল আলম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.-এর বড় সাহেব জাদা, ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী রহ. থেকে খেলাফত লাভ করেছিলেন তিনি। সে হিসেবে আল্লামা ফরীদ মাসঊদ সাহেব সুলুক, আত্মশুদ্ধির লাইনে কাজ করে থাকেন। এবং তিনি এ বিষয়ের একজন উঁচু মানের ব্যক্তিত্ব।
একারণে আল্লামা ফরীদ সাহেব ইসলাহ বা সংশোধনের আহ্বান করে যাচ্ছেন এ জাতিকে। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দিচ্ছেন। প্রত্যেক মানুষ নিজেকে সংশোধন করে কিভাবে আল্লাহর দিকে রুজু হতে পারে। আল্লাহর কাছে খালেছ তওবার মাধ্যমে ফিরে যেতে পারে সেই ফিকির নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আল্লামা মাসঊদ সাহেবের ইসলাহী ইজতেমা চলছে। কদিন আগে করলেন খুলনা শহরে। এবার করলেন নোয়াখালীতে। সে সব প্রোগ্রামগুলো সফল ভাবে শেষ হচ্ছে। মানুষের মাঝে সাড়াও পড়েছে ব্যাপক হারে। দলে দলে মানুষেরা যোগদান করছে ইসলাহী ইজতেমায়। আল্লামা মাসউদ সাহেবের এসব প্রোগ্রামগুলো বড্ড প্রশংসনীয়। এই সংকটময় মুহুর্তে মানুষকে এরকম সংশোধনের রাস্তা বাতলিয়ে দেওয়া এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
আমি আশা করবো, আমাদের আলেম সমাজের বহু ব্যক্তিত্ব আছেন, তারাও সুলুকের লাইনের বড় শায়েখ। আল্লামা ফরীদ সাহেব হুজুরের মত উনারাও এগিয়ে আসবেন। তারাও বিভিন্ন ইসলাহী প্রোগ্রামের মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দেবেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে কবুল করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও বিশ্লেষক


