আল্লাহর ভয়ে ঝরা এক ফোঁটা অশ্রু হাসরের ময়দানে নাজাতের কারণ হতে পারে’

আল্লাহর ভয়ে ঝরা এক ফোঁটা অশ্রু হাসরের ময়দানে নাজাতের কারণ হতে পারে’

আল্লাহর ভয়ে ঝরা এক ফোঁটা অশ্রু হাসরের ময়দানে নাজাতের কারণ হতে পারে’

পাথেয় রিপোর্ট : আল্লাহর ভয়ে চোখ থেকে ঝরে পড়া এক ফোঁটা অশ্রুরই হাশরের ময়দানে নাজাতের কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, আওলাদে রাসূল, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলিফা শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, আমাদের হৃদয় পাথরের চেয়েও শক্ত হয়ে গেছে। আমরা কাঁদতে ভুলে গেছি। কবর, কিয়ামত, হাশর, জাহান্নামের ভয়ে এখন আমাদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরে না। অথচ আল্লাহর ভয়ে চোখ থেকে অশ্রু ঝরানো মুমিনের আলামত।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বাদ এশা বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা নোয়াখালী জেলা শাখা আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ইসলামী ইজতেমায় ইসলাহী বয়ানে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।

মিজানের পাল্লায় সারা পৃথিবীর চেয়েও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দের ওজন অনেক বেশি উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। মিজানের পাল্লায় ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দের ওজন সারা পৃথিবীর থেকেও বেশি হবে।

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই ইসলাহী ইজতেমায় একত্রিত করেছেন। তিনি আমাদের ভালোবাসেন বলেই একালে সমাবেত হওয়ার তাওফিক দান করেছেন। আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলি ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ ‘আল্লাহ ও তাঁর নামের জিকির’ জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, আল্লাহ নামের জিকিরের স্বাদ, আল্লাহ নামের স্বাদ কখনো কমে না, বরং যত বেশি বেশি করবে ততো স্বাদ বৃদ্ধি পাবে। আল্লার নামের জিকিরে কখনো বিরক্তিও আসে না। যে ব্যক্তি যত বেশি জিকির করবে সে আল্লাহর কাছে ততো প্রিয় হতে থাকবে। দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ ও আল্লাহর নামের জিকিরের চাইতে মধুর কোন শব্দ নেই।

প্রত্যেকটা নেক কাজের আলাদা আলাদা সুগন্ধি আছে মন্তব্য করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, মানুষ যখন কোন নেক কাজ করে, তখন এই নেক কাজের সুগন্ধি ছড়ায়। আমাদের নাক বন্ধ, তাই আমরা পাই না। কিন্তু ফেরেশতারা এই নেক কাজে সুগন্ধি পায়। তারা এই সুগন্ধি পেয়ে আল্লাহ কাছে দুআ করে- ‘হে আল্লাহ তোমার অমুক বান্দা নেক কাজ করে আমাদেরকে সুগন্ধি দিয়েছে। আমাদেরকে শান্তি দিয়েছে। তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দাও।

তিনি বলেন, প্রত্যেটা গুণাহের কাজেরও আলাদা আলাদা দুর্গন্ধ আছে। মানুষ যখন মিথ্যা বলে, গীবত করে, জিনা-ব্যভিচার করে, বিভিন্ন ধরনের গুণাহে লিপ্ত হয়, তখন মানুষের শরীরে, বাতাসে এসব পাপাচারে দুর্গন্ধ ছড়ায়। আর ফেরেশতারা দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে আল্লাহর কাছে দুআ করে বলে- ‘হে আল্লাহ ওরা আমাদেরকে কষ্ট দিচ্ছে। মিথ্যা কথা বলে বেড়েচ্ছে। তুমি তাদের উপর অভিশাপ বর্ষণ করো।’

ইসলাহী বয়ানের পর ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের মাঝে আগ্রহীরা মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হাতে বায়আত গ্রহণ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *