আসুন! আমরা বিনয়ী হই
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আলেমগণ মুসলিম জাতির অমূল্য সম্পদ। একথাটা আমাদের জানা। কোন আলেমই আমাদের উপকারের বাইরে নয়। সব আমাদের। ছোট হোক, বড় হোক সবাই কাজে আসছে। বড় আলেমগণ যেভাবে খেদমত করছেন, ছোট ছোট আলেম- উলামাগণ তারাও তাদের স্থানে খেদমতে জুড়ে আছেন।
আমাদের দেশে কিছু কিছু মানুষের ধারণা আছে, একজন বড় শায়েখ, বড় ফকীহ, তাঁর কত অবদান, কত খেদমত। সেই বড় ব্যক্তিদের সমীহ করতে করতে আর ছোটদের কথা মনে থাকে না। ছোটদেরকে খুব নিচু করে দেখি।
আমাদের মনে হয়, ছোট ছোট আলেমদের কোন খেদমত নেই। সব বড় শায়েখগণ করে যাচ্ছেন। আর বড় শায়েখগণ একবার উপরে উঠলে আর নিচের দিকে তাঁকাতে চান না। ছোটদের মোটেও পাত্তা দিতে চান না।
আরেকটা বিষয়, নিজেকে সব জ্যান্তা মনে করেন আজ কিছু মানুষ। একটু দেশের বাইরের থেকে সনদ নিয়ে আসলে আর কথাই নেই। থোড়াই কেয়ার করেন সব!
বড় আফসোস! আলেম কাকে বলে? আলেম তো হবে শীতল মস্তিস্কের অধিকারী”। আলেম হবে বিনয়ী। আলেমের মধ্যে কখনও অহংকার বোধ থাকতে পারে না।
একজন আলেম হবেন উদার। মনটা অনেক বড় থাকবে। মনের মধ্যে জায়গা থাকবে প্রচুর। কিন্তু আমাদের একি অবস্হা? আজ কিছু কিছু আলেম- উলামা এত গরম, এত গরম ভাবতে লজ্জা বোধ হয়।
কিছু আছেন গরম গরম বক্তা। মঞ্চে উঠলে হুঁশ হারায়ে ফেলেন। মনে করেন আমার থেকে আর বড় আলেম বোধ হয় আর নেই। তাই নিজের সাউন্ড যা আছে, সব ঝাড়তে থাকেন। আবার কার বিরুদ্ধে বলছেন, কেন বলছেন? তার কোন বাছ- বিছার নেই।
ঐ যে সাউন্ড গ্রেনেড খ্যাত বক্তা সাহেবকে দেখে ছিলাম গত বছর, একজন হক্কানী আলেমের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়ায়ে বক্তব্য দিলেন। অথচ সবই ছিল ডাহা মিথ্যা। তিনি একজন আলেম হয়ে আরেক আলেমের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে বক্তৃতা করলেন। খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।
আবার দিলের সংকীর্ণতা তো আছেই। অন্য কাউকে দেখতে না পারা। আরেকজন যোগ্য আলেমকে ভাল নজরে না দেখতে পারা। এটা বড় দিলের রোগ। তিনি তো কোন বড় ওয়ায়েজকেও দেখতে পারেন না। এখন সবাই মিলে বড় ওয়ায়েজকে দাবানোর মিশন হাতে নিয়েছেন।
এভাবে আমাদের বহু আলেম- উলামা রোগাক্রান্ত। মনের রোগ। অন্যের ভাল দেখতে না পারার রোগ। সংকীর্ণ দিলের রোগ।এই রোগগুলো বড় মারাত্মাক।
আলেমদের উদার মন- মানসিকতা, ঠাণ্ডা মেজাজ, অন্যের মঙ্গল কামনা করা, আরেকজনকে বেইজ্জতি না করা, ইজ্জত করা, এসব তো আলেমদের সিফাত হওয়া চাই।
কিন্তু বড় দুঃখের বিষয়, বড় আলেম, বড় ফকীহ দাবী করে, সময় সুযোগে আরেক আলেমের বিরুদ্ধে কলম ধরা, এটা কি কোন আলেমের পরিচয়? এটা কি কোন ফকীহ এর পরিচয়?
যে গাছে বেশী ফল ধরে, সে গাছ টা কিন্তু নুয়ে পড়ে। ফলের ভারে মাটি ছুঁই ছুঁই অবস্থা হয়। ঠিক, যিনি বড় আলেম, তিনি তো বিনয়ী হবেন। যে যাই বলুক, তাঁর চাল- চলন, উঠা – বসা, কাজ কর্মের মাঝে বিনয়ী প্রকাশ পাবে।
এজন্য আসুন! আমরা বিনয়ী হই। অহমিকা অন্তর থেকে ঝেঁড়ে ফেলে দেই। আল্লাহ সহজ করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


