আহমদ শফীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক ইলিয়াসের এজেন্ডা কী?

আহমদ শফীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক ইলিয়াসের এজেন্ডা কী?

উটপাখির ডিগবাজি

আহমদ শফীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক ইলিয়াসের এজেন্ডা কী?

হুসাইন আহমদ বাহুবলী : সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন। সরকারের কোন কোন পদে হিন্দু নিয়োগ হলো এই সংবাদ উপস্থাপন করে দেশবাসীর নজর কাড়েন। এরকম আরো কিছু গোপন নথি আবিষ্কার করেছেন এবং করবেন বলে হুংকার দিয়েছেন। এ কারণে তাকে গুম হত্যা করা হতে পারে বলে মানুষের দয়া-ভালোবাসা আকর্ষণ করেন। তখন তাকে সন্দেহ হয়নি। কিন্তু সন্দেহ করলাম কখন? সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন যখন বলছিল আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও মামুনুল হককে চোখ বুঝে বিশ্বাস করা যায়। তখন থেকেই আমাদের অঙ্গনের আবেগী যুবকেরা মাথায় তুলে নাচতে শুরু করছিলেন। সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে যেভাবে আমিরুল মুজাহিদীন ঘোষণা করা হয়েছিল সেই ভাবে।

আমি তখন এই ভেবে কুল পাচ্ছিলাম না, আমাদের সর্বজনশ্রদ্ধেয় আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা. বা. কে পাশ কাটিয়ে দ্বিতীয় সারির দুইজনকে নিয়ে ইলিয়াস হুসাইনের এ বক্তব্য কেন?

আশঙ্কা করছিলাম ইলিয়াস হোসাইন বিরোধী দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে হয়তো বদ্ধপরিকর। এই অবস্থান থেকে তার এই বক্তব্য খুবই মানানসই। কারণ বক্তব্য মানুষ নিজের কল্যাণে দিয়ে থাকে। প্রতিপক্ষের কল্যাণে নয়। ইলিয়াস হোসাইন আমাদের নয় এ আশঙ্কা করেছিলাম।

কিন্তু ভবিষ্যৎ জানিনা বলে নীরব থাকলাম। কিন্তু আজ দেখছি ইলিয়াস হোসেন আইডি থেকে আল্লামা আহমদ শফিকে কেন্দ্র করে বীভৎস মন্তব্য দেখে আর বুঝতে বাকি রইল না ইলিয়াস হোসেনের এজেন্ডা কি?

আমরা তো বরাবরই উটপাখির মতো হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কোন বুজুর্গ যখন আমার পক্ষে কথা বলেন, তখন তার মত বুজুর্গ পৃথিবীতে আর নেই বলে প্রচার করি। ওই বুজুর্গ যখন এমন বক্তব্য দেন যা আমার বিপক্ষে যায়, তখন বলি তাকে কেউ শিখিয়ে দিয়েছে, এটা তার বক্তব্য নয়।

তাহলে তিনি যখন আপনার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন, ওটাও তো কারো শিখানো হতে পারত? তখন আপনি এমন বলেননি কেন? এটাকেই বলে ডিগবাজি।
সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনকে যারা আপোসহীন সিপাহসালার রূপে উপস্থাপন করেছিলেন। তারা আজ চরম বিপাকে পড়েছেন। তারা ফেক ফেক করছেন। ফেইক আইডি বুঝাবার চেষ্টা করছেন।

কয়েক জায়গায় কমেন্ট করলাম, তাহলে কি সারোয়ার হোসাইন অন্য কোন আইডি থেকে এর প্রতিবাদ করেছে? একজন সাংবাদিক হওয়ার সুবাদে এই সংবাদ তার অজানা থাকার কথা নয়।

ইলিয়াস হোসাইনের ভক্তদের বললাম, তার লাইভে এসে প্রতিবাদ করার আগ পর্যন্ত এই বক্তব্যকে তার বক্তব্য ধরেই নিতে হবে। শুধু ফেইক দাবি করলে চলবে না।

এখন পর্যন্ত কেউ তার কোন প্রতিবাদী লাইভ দেখাতে পারেননি। আগামীতেও কেউ পারবেন বলে মনে হচ্ছে না।

একটা কাজ করতে পারেন আপনারা। আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, বিএনপি আমাদের কিছু দেয় নাই। এতে যারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আপনারা লিখে এবং মন্তব্য করে জানান বিএনপি আমাদেরকে কি কি দিয়েছে?

মনে রাখতে হবে সামান্যতম অবদান কেউ রাখেও সে অবদানের স্বীকৃতি পায়, স্বাভাবিকভাবেই তারা আরো অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত হবে।
অপরদিকে যারা সুযোগ পেয়েও অবদান রাখেনি, তাদের সমালোচনা যদি এখন করা যায়, আফসোসে ফেলা যায়, আগামীতে তাদের এই ভুল না হবার সম্ভাবনা থাকবে বেশি।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *