ইউক্রেনের ৪০টির বেশি শহরে ফের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইউক্রেনের ৪০টির বেশি শহরে ফের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : একদিনে ইউক্রেনের ৪০টির বেশি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির বিভিন্ন শহরের স্থাপনায় আঘাত হানে বলে দাবি ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের। আর রাশিয়ার ৩২টি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী।

ইউক্রেনের বন্দরনগরী মাইকোলাইভের মেয়র অলেক্সান্ডার সেনকেভিচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ব্যাপক গোলাবর্ষণ হয়েছে। একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। ভবনের ওপরের দুটিতলা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

রুশবাহিনী বৃহস্পতিবার ভোরে বিস্ফোরক ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ অঞ্চলের একটি এলাকাকে টার্গেট করে। ড্রোন হামলায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কার্যালয়ের কর্মকর্তা কিরিলো টিমোশেঙ্কো।সমপ্রতি ক্রিমিয়ার কার্জ ব্রিজে শক্তিশালী বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তের জন্য কিয়েভকে দায়ী করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। এরপর থেকে ইউক্রেন জুড়ে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করেছে রুশবাহিনী। এ কয়েক দিনে প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক।

এদিকে, কিয়েভে ইরানে তৈরি ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সঙ্গে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী সেতুতে বিস্ফোরণের পর প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

  • রাশিয়ার হুমকি

ইউক্রেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোয় যোগ দেওয়ার প্রচেষ্টার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন রুশ ফেডারেশনের নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি আলেকজান্ডার ভেনেডিক্টভ। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সিকে সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোয় অন্তর্ভুক্ত করলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। তাস ভেনেডিক্টভকে উদ্বৃত করে জানিয়েছে, ‘কিয়েভ ভালো মতোই জানে এ ধরনের পদক্ষেপের অর্থ তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ নিশ্চিত। আপাতদৃষ্টিতে, তথ্যগত গোলমাল করে আবারও নিজেদের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করছে ইউক্রেন।’

এদিকে, বৃহস্পতিবার এক সম্মেলনে যোগ দিতে কাজাখস্তানের আস্তানা সফর করছেন পুতিন ও এরদোয়ান। সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে এরদোয়ানকে পুতিন বলেছেন, যদি তুরস্ক ও আমাদের সম্ভাব্য অপর ক্রেতা দেশের আগ্রহ থাকে তাহলে আমরা তুরস্ককে একটি গ্যাস হাবে পরিণত করার বিষয়টি বিবেচনা করব। তৃতীয় আগ্রহী দেশ, বিশেষত ইউরোপের আগ্রহ থাকলে এখান থেকে গ্যাস বিক্রি করা হবে।

পুতিন আরো বলেন, যদি গ্যাস হাব প্রতিষ্ঠা করা হয় তাহলে এটি শুধু সরবরাহের প্ল্যাটফরম হবে তা নয়, গ্যাসের মূল্যও নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। জানা গেছে, বৈঠকে ইউক্রেন নিয়ে কথা হয়নি। তবে বিবিসি জানায়, এরদোয়ান ইউক্রেনে ‘শান্তি চুক্তি’র প্রস্তাব দিতে পারেন পুতিনকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *