মাদকের সঙ্গে অস্ত্র ঢুকছে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে

মাদকের সঙ্গে অস্ত্র ঢুকছে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির (ক্যাম্প) এখন রীতিমতো সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। মাদকের কারবার, দোকানপাট, ব্যবসাবাণিজ্য এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পের ভেতর-বাইরে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ।

ক্যাম্পের অভ্যন্তরে প্রায় প্রতিদিনই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও খুনাখুনির মতো ঘটনা ঘটছে। টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে ক্যাম্পে নিরাপত্তায় নিয়োজিত (পাহারাদার) রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক ও মাঝিদের (রোহিঙ্গা নেতা)। এর মধ্যে নতুন করে ক্যাম্পে মাদকের চালানের সঙ্গে অস্ত্রও ঢুকছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

তারা জানান, সীমান্তের জিরো পয়েন্টে থাকা অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের বেশির ভাই এখন ক্যাম্পে ফিরেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এখনই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর অভিযানও পরিচালনা করা যেতে পারে। অন্যথায় যে কোনো সময় ক্যাম্পে বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকছেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুধু রাতে নয়, এখন দিনেও চলছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। উখিয়া-টেকনাফে ৩২টি ক্যাম্পেই পরস্পরবিরোধী একাধিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শিবিরগুলোর সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খুনাখুনি, অপহরণ, গুম, লুটপাট স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে রূপ নিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে উখিয়া-টেকনাফের পুরো অঞ্চলে। নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছে স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে বিট পুলিশিং কাউন্সেলিং এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু আসছে না তেমন কোনো কার্যকর ফল।

সম্প্রতি উখিয়ার ১৮নং ক্যাম্পে সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে নিরাপত্তায় নিয়োজিত এপিবিএন পুলিশ ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপরে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। এতে এক রোহিঙ্গা শিশু নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক রোহিঙ্গা নারী।

এছাড়াও গত পাঁচ মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২০টির মতো খুনের ঘটনা ঘটেছে। আর ২০১৭ সালের পর থেকে ক্যাম্পে এ পর্যন্ত খুনের ঘটনা ঘটেছে ১২০টির বেশি। যারা খুন হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই ছিলেন ক্যাম্পভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতা (মাঝি) ও স্বেচ্ছায় প্রহরারত স্বেচ্ছাসেবক।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটি মহাসচিব এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও বাইরে অসংখ্য সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে উঠেছে। তারা মাদকের ব্যবসা, অপহরণ, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ করে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি এসব সশস্ত্র গ্রুপের টার্গেটে পরিণত হয়েছে স্থানীয়রা। রোহিঙ্গারা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দল বেঁধে বাড়ি ঘেরাও করে স্থানীয়দের তুলে নিয়ে মারধর করছে। অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছে। এতে দিনদিন স্থানীয়দের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে। সামনে হয়তো ক্যাম্পের আশপাশে বসবাস করা কঠিন হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, অন্তত ৩০ হাজার রোহিঙ্গা অস্ত্রধারী রয়েছে বলে আমার মনে হয়। এসব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের নিরস্ত্র করতে নিয়মিত সেনাবাহিনীর অভিযান অথবা ক্যাম্পের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দিতে হবে। এছাড়াও মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল বন্ধ করা গেলে কিছুটা অপরাধ কমে আসবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *