পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সৌদি আরবের বর্তমান প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাসোগি নিখোঁজের পর এবার রাজ পরিবারের পাঁচজন প্রিন্স নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জামাল খাসোগির ঘটনায় যুবরাজের সমালোচনায় করায় রাজপরিবারের ওই সদস্যদের নিখোঁজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা যুবরাজ খালিদ বিন ফারহান আল-সৌদ। জার্মানিতে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান আল-সৌদ ব্রিটেনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।
ওই পত্রিকাকে প্রিন্স ফারহান জানান, রাজপরিবারের এসব সদস্য আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা রাজা আবদুল আজিজের নাতি। গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রিন্সরা সাংবাদিক খাসোগি নিখোঁজের সমালোচনা করেছিলেন। এরপরই তাদের আটক করে গুম করা হয়। আটক প্রিন্সদের কোথায় রাখা হয়েছে তা জানা যায়নি বলেও জানান তিনি।
ইন্ডিপেনডেন্টকে তিনি জানান, রাজপরিবারের এসব সদস্য আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা রাজা আবদুল আজিজের নাতি। গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রিন্সরা সাংবাদিক খাশোগি নিখোঁজের সমালোচনা করেছিলেন। এরপরই প্রিন্সদেরকে আটক করা হয় এবং তাদেরকে কোথায় রাখা হয়েছে তা জানা যায়নি।
প্রিন্স ফারহান বলেন, ঠিক পাঁচদিন আগে কয়েকজন প্রিন্স সালমানের সঙ্গে দেখা করতে যান এবং তারা বলেন যে, তারা আলে সৌদি পরিবারের ভবিষ্যত নিয়ে ভীত। এসময় তারা খাশোগির ঘটনা উল্লেখ করেন। কিন্তু তাদের সবাইকে জেলে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে ভিন্ন মত পোষণকারী প্রিন্সেদেরকে প্রায় সময়ই আর্থিক সুবিধার লোভ দেখিয়ে বিদেশে সৌদি কূটনৈতিক মিশনগুলোতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে অন্তত ৩০ বার সৌদি কূটনৈতিক মিশনে নেয়ার চেষ্টা করেছে বলে জানা তিনি।
খাসোগি নিখোঁজ, কিন্তু তাঁর হত্যার ব্যাপারে নিশ্চিত তুরস্ক কর্তৃপক্ষ। এরপরও তুরস্ক সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘটনাটি যৌথভাবে তদন্ত করতে রাজি হয়েছে। সৌদির একটি প্রতিনিধিদল গতকাল তুরস্কে পৌঁছেছে। সপ্তাহজুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সৌদি রাজপরিবারের প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রিন্স খালেদ আল-ফয়সাল তুরস্কে এসেছিলেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংকট সমাধানের চেষ্টা করছেন। তাঁর সফরের সময় দুই দেশের যৌথ তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়।
লন্ডন প্রবাসী সৌদি ব্যঙ্গ-রচয়িতা গানেম আদ-দোসারি প্রিন্স ফারহানের বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক ও লেখকরা এখন বিদেশ সফরের বিষয়ে ভয় পাচ্ছেন; এমনকি অনেকে তাদের ঘর-বাড়ি ছাড়তে ভয় পাচ্ছেন।


