ঐ এলো রমজান
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : মাসের পর মাস পেরিয়ে আবারো আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে মাহে রমজান। রহমত বরকত মাগফেরাতের বার্তা নিয়ে রমজান এখন আমাদের দোর গোড়ায়।
আরব দেশ সমুহে অলরেডি রমজান শুরু হয়ে গেছে। আমাদের দেশেও হয়ত আজ চাঁদের দেখা মিলবে। সে হিসেবে আজ রাতে তারাবীহ এবং সেহেরীর আমল চালু হয়ে যাবে।
রমজান মাস একটা আলাদা অনুভুতি। একটা ব্যতিক্রম ধর্মী মাস। এ মাসের সাথে অন্য কোন মাসের তুলনা হয়না। পুরো রমজান মাসই বরকতে ভরপুর। একারণে রাসুল ( সাঃ) সেই রজব মাস থেকে দুআ করতেন, এই রমজানকে পাওয়ার জন্য। তিনি বলতেন, হে আল্লাহ! রজব এবং শাবান মাসে বরকত দান কর এবং রমজান পর্যন্ত আমাদের হায়াত বাড়ায়ে দাও।
কেননা, রমজানের যে ফজীলত এবং মর্যাদা, সেই মর্যাদা লাভের জন্য রাসুল ( সাঃ) ফরীয়াদ করতেন মহান আল্লাহর কাছে।
এই রমজান মাসে মু’মিন মুসলমানের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে। প্রত্যেক সুস্হ, বালেগ, বিবেকসস্পন্ন লোকের জন্য রমজানের রোজা ফরজ।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ” হে মুমিন গন তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনি ভাবে পুর্ববর্তী উম্মতগণের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার” ( সুরা বাকারা-১৮৩)
পুরো রমজান মাসে প্রত্যেক সুস্হ বিবেক সম্পন্ন মানুষের রোজা রাখতে হবে। কারো জন্য রোজায় কোন ছাড় নেই। হ্যাঁ তবে যদি কেউ অসুস্হ হন, বা কেউ যদি মুসাফির হয় তাহলে সে পরবর্তীতে রোজা গুলো আদায় করে নেবে। তবুও রোজাতে কোন ছাড় পাওয়া যাবেনা।
এই মাহে রমজানের রোজা বান্দার জন্য বড় নেয়ামত। এই রোজার দ্বারা বান্দার পরিশুদ্ধি হয়। বছরে একমাস মাত্র রোজা। এ রোজা রাখলে ঈমানদারগণ একদম ঝেঁড়ে মুছে পুত পবিত্র হয়। আত্মার শুদ্ধতা লাভ করে করে এই রোজার দ্বারা।
হাদীসে আছে, ” আছ ছাওমু জুন্নাতুন, মা লাম ইয়াখরিকহা”
” রোজা ঢাল স্বরুপ, যতক্ষন না উহাকে ফাঁড়িয়ে ফেলে”( বুখারী)
ঢাল যেমন মানুষকে দুশমুনের আঘাত থেকে রক্ষা করে, শত্রুর আক্রমণ থেকে হেফাজত করে। ঠিক রোজার দ্বারা মানুষ শয়তানের আক্রমন থেকে,নফসানিয়্যাত থেকে, কু প্রবৃত্তি থেকে হেফাজতে থাকে।
রোজার মাধ্যমে শয়তানের আক্রমন এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে বেঁচে একদম পবিত্র মানুষ রুপে গড় ওঠে। রোজাদার ব্যক্তি সব ধরনের পাপাচার থেকে মুক্ত হয়ে খাঁটি আল্লাহ প্রেমিক বনে যায়।
রোজার বহু ফজীলত হাদীসে বর্ননা করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় ফজীলত হল, হাদীসে কুদসীতে আছে, ” আছ ছাওমু লী,ওয়া আনা আজঝি” ” রোজা আমার জন্য, আর এর প্রতিদান আমি নিজেই দিব।
রোজার প্রতিদান আল্লাহ নিজেই দিবেন। কেননা, এটা এমন একটা ইবাদাত, এ ইবাদাত এক মাত্র আল্লাহর জন্য। আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য রোজা রাখা হয়, তাই এই রোজার বদলা আল্লাহ নিজেই দিবেন।
অন্য এক হাদীসে রয়েছে, ” মান ছামা রামাযানা ইমানাও ওয়া ইহতিছাবান,,,,,,,,,,,,,,,
যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য রোজা রাখবে, তার পুর্ববর্তী সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।
এজন্য রোজার মাস আমাদের জন্য বড় নেয়ামত। এত ফজীলত এবং মর্য্যাদা পুর্ণ মাসে আমরা এসে গেছি, এটা আমাদের পরম সৌভাগ্য। আল্লাহ তায়ালা মোবারক এই মাসে আমাদের নিয়ে এসেছেন, আমরা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। সেই সাথে তাঁর কাছে সাহায্য চাই,তিনি যেন আমাদের রোজা রাখার তাওফিক দান করেন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও বিশ্লেষক


