ওয়াসার পানির দামবৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সরকারের প্রতিটি বিভাগেরই উচিত জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। প্রতিটি বিভাগেই দেখা যায়, জনগণের সেবার চিন্তা না করে বরং তাদের ঘাড়ে কাঁঠাল ভেঙ খাওয়ার একটা প্রবণতা। ওয়াসার পানির ক্ষেত্রেও হয়েছে তা-ই। রাজধানীর দেড় কোটি মানুষকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অন্ত না থাকলেও নানা অজুহাতে পানির দাম বাড়ানোর বেলায় তাদের সাফল্য আছে। নতুন করে আবার প্রস্তাব করেছে পানির দামবৃদ্ধির জন্য। অতিসম্প্র্রতি ওয়াসা তাদের উৎপাদিত পানির দাম বাড়াতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বললেও অত্যুক্তি হবে না।
ণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসায় ১ ইউনিট পানি উৎপাদনে খরচ হয় ১৬ টাকা ২১ পয়সা। পানি উৎপাদন খরচের সঙ্গে কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে দাম ধরা হয়। কিন্তু পানির মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবে ওয়াসা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে উৎপাদন খরচ উল্লেখ করেছে প্রায় ২৫ টাকা। লাভে থাকা সত্ত্বেও ভুল তথ্য দিয়ে পানির মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
গত বছর ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব এনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেন। উল্লেখ করা হয়, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং বৈদেশিক ঋণের ডিএসএল (কিস্তি) বৃদ্ধি পাওয়ায় এ আয় দিয়ে তা পরিশোধ দুরূহ হয়ে পড়েছে। ঢাকা শহরে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও গণমুখীকরণের লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিছু প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর জবাবে মন্ত্রণালয় পানির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব সুনির্দিষ্টকরণের নির্দেশ দেয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে ওয়াসার পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়, ১ হাজার লিটার পানির উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ টাকা।
দাফতরিক খরচ, অন্যান্য ব্যয়সহ উৎপাদন খরচ প্রায় ২৫ টাকা। অথচ অডিট অনুযায়ী ওয়াসার উৎপাদিত পানির খরচ প্রতি ইউনিটে ১৬ টাকা ২১ পয়সা। ওয়াসা এ পানি আবাসিকে ১১ টাকা ৫৭ পয়সা ও বাণিজ্যিক সংযোগে ৩৭ টাকা ৪ পয়সা বিক্রি করে লাভও করছে। মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যথাযোগ্য যুক্তি না থাকলেও ঢাকা ওয়াসা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ভুল তথ্য দিয়ে দাম বাড়ানোর যে কসরত করছে তা একেবারেই বুমেরাং একটা চিন্তা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি পর্যালোচনা করে যথার্থ সিদ্ধান্ত নেবে বলেই আমরা মনে করি।


