করোনায় মৃত্যুপুরী দিল্লি, জায়গা নেই শ্মশানে!

করোনায় মৃত্যুপুরী দিল্লি, জায়গা নেই শ্মশানে!

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যযস্ত গোটা ভারত। সম্প্রতি ড্রোন থেকে তোলা রাজধানী দিল্লির ছবি গা শিউরে ওঠার মতো। সারি সারি জ্বলছে চিতা। একই চিত্র কবরস্থানগুলোর। মরদেহ সমাহিত করার জায়গা খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জ্বলন্ত গণচিতার ছবিটি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শুক্রবার দৈনিক সংক্রমণে ফের রেকর্ড গড়েছে ভারত। একদিনে নতুন করে দেশে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৩০ জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে দিল্লিতেই নতুন করে আক্রান্ত ২৬ হাজার ১৬৯ জন। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) রাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে একদিনে ৩০৬ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আনন্দবাজার জানায়, এর আগে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে শ্মশানের বাইরে দেহ নিয়ে সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে দিল্লিতে পরিস্থিতি এমন যে, শ্মশানের বাইরে লাইনেও জায়গা পাচ্ছেন না অনেকে। বাধ্য হয়ে বাড়িতেই প্রিয়জনের মৃতদেহ রেখে দিতে হচ্ছে।

নিতীশ কুমার নামের জনৈক ব্যক্তি জানান, কভিডে আক্রান্ত হয়ে দুই দিন আগে তার মা মারা গেছেন। কিন্তু কোনো শ্মশানে মায়ের দেহ দাহ করার জায়গা পাননি তিনি। বাধ্য হয়ে দুই দিন বাড়িতেই মায়ের দেহ রেখে দিয়েছিলেন নিতীশ। তিনি বলেন, কোথায় না গিয়েছি। কিন্তু কিছু না কিছু কারণে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। চিতা জ্বালানোর জন্য কাঠ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও শুনতে হয়েছে। শেষমেশ একটি পার্কিং লটে গড়ে ওঠা অস্থায়ী শ্মশানে মা-কে চিতায় তোলার জায়গা মেলে। বৃহস্পতিবার সেখানেই মা-কে দাহ করেন তিনি।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘শহীদ ভগৎ সিংহ সেবা দল’-এর প্রধান জিতেন্দ্র সিংহ শান্টি বলেন, দিল্লিতে এমন দৃশ্য দেখতে হবে কেউ ভাবেনি। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়ে, কারও বয়স ৫, কারও ১৫, কারও ২৫। তাদের দাহ করতে হচ্ছে। সদ্য বিবাহিত অনেকের দেহও শ্মশানে আসছে। চোখে দেখা যাচ্ছে না।

তিনি জানিয়েছেন, সীমাপুরীর পার্কিং লটে গড়ে ওঠা অস্থায়ী শ্মশানে বৃহস্পতিবার বিকেলে ৬০টি দেহ দাহ করা হয়েছে। জায়গা না পেয়ে পড়েছিল আরো ১৫টি দেহ। কিন্তু গত বছর পরিস্থিতি এতটা ভয়ংকর ছিল না। সংক্রমণ যখন সর্বোচ্চে গিয়ে ঠেকে, সেই সময়ও একদিনে সর্বাধিক ১৮টি দেহ দাহ করতে হাত লাগিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

জিতেন্দ্র জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার একটি শ্মশানে ৭৮টি দেহ দাহ করা হয়েছে। জিতেন্দ্রর মা নিজে একজন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী। ১০ দিন আগে কভিডে সংক্রমিত হন তিনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনো হাসপাতালে জায়গা হয়নি বলে জানিয়েছেন জিতেন্দ্র।

সূত্র : আনন্দবাজার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *