কামার ফরিদ— এর দুই কবিতা
অপেক্ষার পদাবলী
সখিনা ঘুমিয়ে আছে।
রাতের উঠোনে হায় কী নিবিড় হেঁটে যায়
সপ্নের রেল।
যখন সে জেগে ওঠে পাখিদের সাথে
কোথাও পায়না খুঁজে হারিয়ে যাওয়া সেই
প্রিয়তম মরদের মুখ।
রাতের বিবর্ণ দেহে তাকাতে না তাকাতেই
সকালের হাত ধরে নেমে আসে ভোর।
গোধূলী লগ্ন এলে হয়তবা দেখা হবে, এই ভেবে
সখিনাও ছবি আঁকে…,
দাভিঞ্চী তুলিতে সাজায় প্রতিটি রেকাব।
জেগে থাকা কষ্টকে বুকে নিয়ে
মরদের খোঁজ করে মনের ভেতর।
হারানোর কষ্ট, দু:খ এবং বেদনার ডালা হাতে
কেবলি তাকিয়ে থাকা…,
অপেক্ষার সিঁড়িতে বসে কেবলি তাকিয়ে থাকা।
হয়তবা এভাবেই, খুঁজতে খুঁজতে হায়
কোথাও পাবে না খুঁজে হারানো সেই প্রিয়তম
প্রাণের মরদ।
তবুও অপেক্ষা তাহার ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কাঁদে
ঝুলে থাকা সময়ের বিবর্ণ কাঁটায়।
নিষিদ্ধ অভাব
যতো দূরে যেতে চাও – যাও। নাফ নদী, টেকনাফ, শালবন
ছুঁয়ে ছুঁয়ে – রোদেভাজা তেতুলিয়া ফসলের মাঠ-
যেখানে যেদিকে খুশি যেতে পারো তুমি। কুয়াশা সকাল এসে
ভোরের জানালা খুলে বলে দেবে উজানের কথা
উতলা পবন এসে হাত ধরে নিয়ে যাবে – যদি যেতে চাও।
চলতে-চলতে পথ যতো বেশি ঝুঁকে যাবে পৃথিবীর দিকে
মাটির পিদিমে গড়া মাটিকেই খুঁজে পাবে জোনাকের ভীড়ে
মাঝে-মাঝে হয়তবা নদী ও নারীর সাথে দেখা হতে পারে
সবুজ অরণ্য মাঠে কোনো এক হরিয়াল পাখিদের কথা ভেবে
থমকে দাঁড়াতে পারে তোমার স্বভাব।
এখানে দাঁড়িয়ে তুমি অভাবের সাথে শুধু বলে যাও কথা
দেবদারু, অশ্বথেরা উপবাসে পড়ে আছে বহুকাল
আগুনের ভেতরে দেখ পৃথিবীটা কাঁদিতেছে প্রচন্ড ক্ষুধায়
ডুকরে-ডুকরে কাঁদে ভরাবুক রাখালের মরুভূমি চর
কষ্টকে বুকে নিয়ে মেঘ সেতো ফিরে যায় আকাশের কাছে।
হাঁটতে-হাঁটতে যখন ভোরের উঠোনে গিয়ে হাতটা বাড়াবে
দেখা হবে কিষানীর ভাঙাচোরা দেহটার সাথে
কাঁপা হাতে তুলে দেবে এক বাটি জলসহ বনবাসী মৃগয়া দুপুর
ডাস্টবিনে পড়ে থাকা তাহাদের বিশুদ্ধ খাবার।
শহর দেখেছ যুবক; দেখনি পৃথিবী এবং নিষিদ্ধ অভাব।
মানব স্বভাব
ধারালো করাত দিয়ে যদি তুমি ভাগ করো
পৃথিবীর সকল মানব
একভাগে পেতে পারো জলজ ভূমি
বিপরীতে জলহীন বিভৎস দানব।
সুতীক্ষ্ম করাত দিয়ে বৃক্ষকে যদি তুমি
করো দুই ভাগ
একপাশে জীবনের সুখের বাথান
বিপরীতে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ।
সুতীক্ষ্ম করাত দিয়ে যদি তুমি ভাগ করো
মাটির হৃদয়
কিছুই পাবে না তুমি… চারপাশে সাইক্লোন,
সীমাহীন মরুর প্রলয়।


