কী আছে জামায়াতের সংস্কারপন্থীদের ঘোষণায়
পাথেয় রিপোর্ট : সব প্রবাদ একই রকম কি হয়? পুরনো চালে ভাতে বাড়ে। আসলে নতুন জামায়াতে ইসলামী আর পুরনো জামায়াতে কি পার্থক্য? নাকি নতুন বোতলে পুরনো মদ। এমন কথাই বলছেন বিশেষজ্ঞ রাজনীতিকগণ। আদা যতই মরে যাক, পচে যাক এর ঝাঁঝ যায় না। সমহিমায় বহাল থাকে। ২৭ এপ্রিল জামায়াতে ইসলামীর সংস্কারপন্থী নেতারা তাদের ঘোষণায় কী রেখেছেন। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন। নাকি সেই মওদুদির চিন্তার নতুন সংস্করণ। এতে কি ধর্মীয় বেত্তাদের কাছে তাদের বিরুদ্ধের সাহাবি বিদ্বেষি তকমা ঘোচাতে পারবেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, কখনোই নয়। দেশ নিয়ে তাদের যে ভিমরতি তা কখনোই কাটাতে পারবে না নতুন জামায়াতে ইসলামীও।
জানা গেছে, সংস্কারপন্থীদের এই উদ্যোগে মূল দলের বা ছাত্রশিবিরের কেউ যাতে শামিল না হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা নজরদারি বাড়িয়েছেন।
নতুন উদ্যোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনই তাঁরা সরাসরি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেবেন না। নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগে ইসলাম বা ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোকে অনুসরণ করা হবে না। সাম্য ও মানবাধিকারকে বেশি গুরুত্ব দেবেন তাঁরা।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আপাতত এই প্রক্রিয়ায় সামনে থাকছেন জামায়াতে ইসলামী থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মজিবুর রহমান (মঞ্জু)। তিনি একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং পরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন করে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ শুরুর ঘোষণা দেবেন তিনি। এ লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার একটি মিলনায়তন ঠিক করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথি বা পর্যবেক্ষক হিসেবে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মজিবুর রহমান গণমাধ্যম জানিয়েছেন, গণ-আকাঙ্ক্ষা, সুশাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন রাজনীতির স্বপ্ন দেখছি আমরা। আশা করি, এতে নতুন প্রজন্মের চিন্তা ও মনোভাবের প্রতিফলন ঘটবে।
সংস্কারপন্থী নেতারা বলছেন, তাঁদের রাজনৈতিক উদ্যোগ ঠেকাতে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন। দলের কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা যাতে এ প্রক্রিয়ায় অংশ না নেন, সে জন্য কড়া নজরদারির পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহী অঞ্চলের জামায়াত ও শিবিরের অন্তত অর্ধশত নেতা ও সদস্যকে ডেকে আলাদাভাবে কথা বলেছেন তাঁরা। ডেকে নেওয়া নেতাদের কাউকে কাউকে শাসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার ডেকে নেওয়া দলীয় সদস্যদের কেউ কেউ সংস্কারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, সংস্কারপন্থীদের রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ ঠেকাতে দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান মালয়েশিয়া হয়ে এখন লন্ডনে আছেন। দেশ দুটিতে জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী ও সমর্থক আছেন, যাঁদের একটি বড় অংশ জামায়াতের সংস্কার চায়। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে শফিকুর রহমান মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে তিনি একাধিক ঘরোয়া সাংগঠনিক বৈঠক করে সংস্কারপন্থীদের ব্যাপারে নেতিবাচক বক্তব্য দেন। এখন তিনি লন্ডনে। জামায়াত থেকে সদ্য পদত্যাগী নেতা আবদুর রাজ্জাক আগে থেকেই লন্ডনে আছেন।


