খালেদার মাধ্যমে শুরু বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি

খালেদার মাধ্যমে শুরু বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি

পাথেয় রিপোর্ট : নির্বাচনী ছক্কা পেটাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বিক্রিও শুরু করে দিয়েছে। হাজতবাসে থাকা বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন কিনে শুরু করেছে তারা ফরম বিক্রি। বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা ঘটা করেই আসছে। ফরম বিক্রির উসিলায় সরগরম হয়ে উঠেছে নয়া পল্টনের বিএনপির অফিসও। বহু দিনের জমে থাকা স্লোগানও দিয়ে নিচ্ছেন এ সুযোগে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে নয়াপল্টন এলাকা। লেগে যাচ্ছে যানজট। ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য ফেনী-১ আসনের মনোনয়ন ফরম কেনা হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে বগুড়া–৬ আসনের জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন নজরুল ইসলাম খান। খালেদা জিয়ার পক্ষে বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

বিএনপির দপ্তর থেকে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার জন্য মোট তিনটি আসনের মনোনয়ন ফরম কেনা হবে। ফেনী-১ আসনের জন্য কেনা হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া–৬ ও ৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। সোম, মঙ্গল ও বুধবার (১২-১৪ নভেম্বর) মনোনয়ন ফরম বিক্রি করবে বিএনপি। ফরম জমা দেওয়ার তারিখ ১৩ ও ১৪ নভেম্বর। প্রতিটি ফরমের দাম পাঁচ হাজার টাকা। জমা দেওয়ার সময় দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, কেনা ও জমা মিলিয়ে প্রতিটি ফরমের দাম পড়বে ৩০ হাজার টাকা।মনোনয়ন ফরম বিক্রিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে–ভেতরে জড়ো হয়েছেন অনেক নেতা-কর্মী। একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা এ সময় চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। কোনো সমাবেশ ছাড়া বহুদিন পর দলীয় কার্যালয়ের সামনে সোমবার ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গত ৩০ অক্টোবর এই মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। কারাবন্দী থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *