চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ● চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটের কাছে নৌকাডুবির ঘটনায় চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। সন্দ্বীপের ওসি শামসুল ইসলাম জানান, গত রোববার গভীর রাতে সন্দ্বীপে মগধরা ঘাটের কাছে তিন জনের লাশ পাওয়া যায়। সোমবার সকালে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাটের কাছে ভেসে ওঠে আরও একজনের লাশ। এদিকে নৌবাহিনীর একটি ডুবুরি দল ও দুটি জাহাজ সোমবার উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে।
গত রোববার সন্ধ্য সোয়া ৭টার দিকে একটি সি ট্রাক থেকে যাত্রী নামিয়ে গুপ্তছড়া ঘাটে পৌঁছে দেয়ার সময় আনুমানিক ৪০ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় ওই লাল বোট। সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে জানালেও ঠিক কতজন নিখোঁজ আছেন সে তথ্য পুলিশ বা কোস্ট গার্ড জানাতে পারেনি। ওসি শামসুল ইসলাম জানান, ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করা হয়েছে। মগধরা ঘাটের কাছে পাওয়া তিনটি লাশের পরিচয়ও জানা গেছে। এরা হলেন, সালাউদ্দিন (৩০), সচিন্দ্র জলদাস (৫৫) ও বড়দা জলদাস (৬২)। উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া কোস্ট গার্ড পূর্বাঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, সন্দ্বীপের মানুষ চট্টগ্রামের মূল ভূখণ্ডে যাতায়াত করেন সি ট্রাকে করে। গভীরতা কম থাকায় এসব বড় জলযান ঘাটে যাত্রী নামাতে পারে না।
কয়েকশ মিটার দূরে সি ট্রাক থামিয়ে যাত্রীদের ছোট নৌকায় করে ঘাটে পৌঁছে দেয়া হয়। এসব ছোট নৌকার খোল লাল রঙের হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে তা লাল বোট নামে পরিচিত। এমনিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগলেও গত রোববার বিকাল ৪টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাট থেকে ছেড়ে আসা সি ট্রাকটি সাগরে ভাঁটা আর বৈরি আবহাওয়ার কারণে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়ায় পৌঁছায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে। গুপ্তছড়ায় পৌঁছানোর পর সি ট্রাক থেকে প্রথমবারে তিনটি লাল বোট শতাধিক যাত্রীকে তীরে নামিয়ে দ্বিতীয় দফা পারাপারের সময় একটি নৌকা উল্টে যায়।
সন্দ্বীপের ওসি বলেন, আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকজনকে সন্দ্বীপ সেন্ট্রাল পয়েন্ট হাসপাতাল ও সন্দ্বীপ মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা। এদিকে দুপুরের আগে সন্দ্বীপে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ বিএনএস অপরাজেয় ও বিএনএস শাহজালাল। তাদের সঙ্গে আট সদস্যের একটি বিশেষায়িত ডুবুরি দল রয়েছে বলে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


