চলে গেলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক রফিকুল ইসলাম
মাসউদুল কাদির : একজন প্রিয় মানুষের কথা বলতে চাই। যিনি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা দরদিয়া গল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি রোহিঙ্গা সেবায় ছুটে এসেছিলেন লালসবুজের এই দেশে। সেই মানুষটি হলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দ সম্পাদক মুফতি রফিকুল ইসলাম কাসেমী। তিনি ২৫ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার কলকাতার সময় ৪টা ১৫ মিনিটে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।
আমার সৌভাগ্য ওই মানুষটির সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। ছোট্ট একটা ইন্টারভিও নিয়েছিলাম আমি। কদিন আগেই জেনেছি তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। আল্লাহর মহিমা। কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলাম, তিনি যেনো সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু কুল্লু নাফসিন যা ইকাতুল মাওত। সবাই মারা যাবেন। কেউ থাকবেন না।
হাদিসে মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ, মরণের বিষয়টি স্মরণে রাখলে মানুষ অপরাধী হতে পারে না। মানুষের ইহলৌকিক সৌন্দর্যও এর মধ্যে নিহিত রয়েছে। যেমন হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে মানব সম্প্রদায়! সুখ-শান্তি বিনাশকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি করে স্মরণ করো। (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছিলেন মুফতি রফিকুল ইসলাম কাসেমী রহ.। জীবনে ৫৩ বছর সময় পেয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে তিনি রাজ্য সম্পাদক হয়েছেন। গড়ে তুলেছেন অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মৃত্যুর সময় স্ত্রী ও তিনকন্যাকে রেখে গেছেন। গভীর শোক জানিয়েছেন পশ্চিম বাংলা জমিয়তুল উলামা হিন্দ-এর সভাপতি ও রাজ্যের গণশিক্ষা মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, মুফতি রফিকুল ইসলাম কাসেমীর ইন্তেকালে পশ্চিমবঙ্গ একজন সাহসি বীর হারালো। বাংলার মুসলিম সমাজের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। জমিয়তের জন্য তার ত্যাগ আগামী প্রজন্মের জন্য পাথেয় হিসেবে থাকবে।
আমাদের হাজিপাড়ায় বসে মুফতি রফিকুল ইসলামের সঙ্গে আমার অনেক কথা হয়। মানুষের জন্য তার দরদ দেখেছি, তিনি আলেমউলামার বিভিন্ন দেখেও ব্যথিত হতেন। তার কথা মুখে খৈ ফোটে। তিনি যথেষ্ট স্পষ্টকথায় বিশ্বাসী ছিলেন। পশ্চিম বাংলা তারা কি করছেন, আলেমদের কীভাবে ঐকমত্য রেখে সামাজিক কাজগুলো করছেন তা শোনে অবাক না হয়ে উপায় নেই।
ভারতের জমিয়তুল উলামার এই কর্মচেষ্টা সবখানে প্রবাহিত হলে বিশ্বই নতুন কিছু পাবে বলে আমার বিশ্বাস।
আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা, মুফতি রফিকুল ইসলাম চলে গেছেন। আল্লাহ যেনো তাকে পরকালটা সুন্দর করে দেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারকেও সুখে শান্তিতে রাখুন। আমীন।


