চলে গেলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী মাহফুজুর রহমান খান
রঙ প্রতিবেদক : মানুষ চিরদিনই বেঁচে থাকেন না। একদিন চলে যান। এ কারণেই আল্লাহ বলেছেন, ফাফিররু ইলাল্লাহ। আল্লাহর দিকে ফিরে আসো। সারা জীবন চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান পড়ে ছিলেন সিনেমার গল্পগুলোর চিত্রগ্রহণ নিয়ে।
আনন্দ অশ্রু, হাজার বছর ধরে, শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেটুপুত্র কমলা, আগুনের পরশমণিসহ অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমার চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ২৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মাহফুজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর গ্রিনলাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অনেকদিন ধরে ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মাহফুজুর রহমান খান চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণের জন্য দশবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
মাহফুজুর রহমান প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক আব্দুল লতিফ বাচ্চুর শিষ্য। তিনি তার অধীনে সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে ১৯৭০ সালে দর্প চূর্ণ ও ১৯৭১ সালে স্বরলিপি চলচ্চিত্রে কাজ করেন। প্রধান চিত্রগ্রাহক হিসেবে তার প্রথম কাজ ১৯৭২ সালের আবুল বাশার চুন্নু পরিচালিত ‘কাঁচের স্বর্গ’।
মাহফুজুর রহমান খানের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে শাহী মসজিদে শুক্রবার তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে লাশ নেয়া হবে তার প্রিয় কর্মস্থল এফডিসিতে।
মাহফুজুর রহমান খান নিঃসন্তান ছিলেন। তার স্ত্রী ড. নিরাফাত আলম শিপ্রা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০০১ সালের ২৭ আগস্ট মারা যান। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মাহফুজুর রহমান খান ছিলেন সবার বড়।
মাহফুজুর রহমানের জন্ম ১৯৪৯ সালে ঢাকার লালবাগে। তার বাবা মরহুম হাকিম ইরতিজা-উর-রহমান খান ছিলেন ব্যবসায়ী। তার পৈতৃক বাড়ি লালবাগের চকবাজারের হাকিম হাবিবুর রহমান খান সড়কে। প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক এহতেশাম ও মুস্তাফিজ ছিলেন তার ফুফাতো ভাই।
মাহফুজুর রহমান খান ৯বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। চিত্রনায়ক রাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘অভিযান’ (১৯৮৪) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক বিভাগে মাহফুজুর রহমান খান প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
প্রধান চিত্রগ্রাহক হিসেবে মাহফুজুর রহমানের প্রথম কাজ ‘কাচের স্বর্গ’ (১৯৭২)। আমৃত্যু তিনি অসংখ্য ছবিতে চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন।


