চিটাগংয়ের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সহজ জয়

চিটাগংয়ের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সহজ জয়

ক্রীড়া ডেস্ক : চিটাগাং ভাইকিংসকে ৭ উইকেটে হারালো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম পর্বের দিনের প্রথম ম্যাচে শুরুতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় চিটাগাং। বৃষ্টির জন্য নির্ধারিত ১৯ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৬ রান।

লক্ষ্যটা ছিল মাত্র ১১৭। ফলে জয়টা অবশ্যম্ভাবী ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। তবে বৃষ্টিবিঘ্নিত উইকেটের কারণে কিছুটা শংকা ছিল। কারণ, এখানেই ব্যাট করতে নেমে ধুঁকেছে চিটাগং ভাইকিংস। তবে সব শংকাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন তামিম ইকবাল ও শামসুর রহমান। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলকে এনে দিয়েছেন সহজ জয়। তাদের ব্যাটে সংশয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চিটাগংকে ৭ উইকেটে হেসেখেলে হারাল কুমিল্লা।

চিটাগাংয়ের হয়ে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ শেহজাদ ৩৩ রানে সাজঘরে ফেরেন। শেহজাদের পর সাদমান ইসলাম ০, ইয়াছির আলি ০ রানেই ফিরে যান। চার নম্বরে নামা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ফেরেন ৬ রানে। এরপর নাজিবুল্লাহ জারদান ১৩, ক্যামেরুন ডেলপোর্ট ৬, সিকান্দার রেজা ৫ ও নাঈম হাসান ৪ রানে ফিরে যান। আটে নামা মোছাদ্দেক হোসেন করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৩ রান। ইনিংস শেষে মোছাদ্দেক হোসেন ও রানের দেখা না পাওয়া আবু জায়েদ অপরাজিত থাকেন।

বল হাতে কুমিল্লার পক্ষে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ওয়াহাব রিয়াজ ও শহীদ আফ্রিদি দুইটি করে উইকেট তুলে নেন। এছাড়া মেহেদি হাসান একটি উইকেট পান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে মন্থর শুরু করেন তামিম-আনামুল হক বিজয়। উইকেট বুঝে প্রথমে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেন তারা। তবে সেই নীতিতে বেশিক্ষণ অটল থাকতে পারেননি আনামুল। রান তুলতে গিয়ে খালেদ আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে মোহাম্মদ শেহজাদকে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেটে শামসুর রহমানকে নিয়ে খেলা ধরেন তামিম। প্রথমে ধীর-লয়ে চললেও ক্রিজে সেট হওয়া মাত্রই হাত খোলেন তারা। দুজনই ছোটাতে থাকেন স্ট্রোকের ফুলঝুরি। ফলে দুরন্ত গতিতে জয়ের দিকে এগিয়ে যায় কুমিল্লা। আস্তে আস্তে উভয়ই এগিয়ে যান ফিফটির দিকে। তবে অতিরিক্ত চড়াও হতে গিয়ে আবু জায়েদের বলে সিকান্দার রাজার তালুবন্দি হয়ে ফেরেন শামসুর। সাজঘরে আসার আগে ২২ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ততক্ষণে জয় হাতছোঁয়া দূরত্বে।

এরপর ইমরুল কায়েসের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তামিম। পথিমধ্যে ফিফটি তুলে নেন ড্যাশিং ওপেনার। তবে তাকে যথার্থ সঙ্গ দিতে পারেননি ইমরুল। আবু জায়েদের শিকার বনেন তিনি। কিন্তু জয়ে তা বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি। বাকি কাজটুকু থিসারা পেরেরাকে নিয়ে সারেন তামিম। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট ও ১৪ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করেন তারা। ৫১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫৪ রানে অপরাজিত থেকে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়েন তামিম। অপরপ্রান্তে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন পেরেরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *